সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১২

বন্ধু

একদিন এক কাঁকড়া সাগরের তীর ধরে হেঁটে যাচ্ছিল

সাগরের ঢেউ এসে বার বার তার পায়ের ছাপ মুছে দিয়ে যাচ্ছিলো

সেটা দেখে কাঁকড়া বলল==
"
তুমি আমার বন্ধু হয়ে ও কেনো বার বার
আমার এত সুন্দর পায়ের ছাপগুলো মুছে দিচ্ছো ?" :- (

ঢেউ উত্তর দিল==
"
এক জেলে তোমাকে ধরার জন্য তোমার পায়ের ছাপ অনুসরন করছে

তাই আমি তা মুছে দিচ্ছে
যাতে তুমি ভাল থাকো,সুরক্ষিত থাকো ।" :- )

সত্যিকার বন্ধু উপকার করে
কিন্তু , বিনিময়ে চায় না কোন প্রতিদান

মাঝরাতের ফোন কল

আঁতেল সিরিজের ৩য় গল্পঃ


by Oritro Ahmed
ফোনের শব্দে আরিফের ঘুম ভেঙ্গে গেলো।কে গো এতো রাতে? ডিস্প্লেতে দেখে অপরিচিত নম্বর। মেজাজ খারাপ করে আরিফ ফোন ধরলো।ওপাশ থেকে আওয়াজ ভেসে এলো
"হ্যালো আরিফ?"
আরিফ নারী কন্ঠ শুনে একটু অবাক হলো। এতো রাতে অপরিচিত নম্বর থেকে কোন মেয়ে ফোন দিলো ওকে?
"জ্বী আমি আরিফ বলছিলাম,আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না।"
ওপাশ থেকে মেয়েটা হেসে বলল
"ব্রেনের ওপর চাপ দিয়ে লাভ নাই,আপনি আসলেও আমাকে চেনেন না"
এ কথা শুনে আরিফ উঠে বসলো বিছানা থেকে।সে মেয়েটাকে চেনে না কিন্তু মেয়েটা তাকে চেনে।আরিফ এবার নিজে থেকেই একটু আগ্রহী হলো।
কে এই মেয়ে এবং কেনই সে আরিফ কে মাঝ রাতে ফোন দিয়েছে?
"আপনাকে আমি কিভাবে সাহায্য করতে পারি?" আরিফের প্রশ্ন ।
"আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই" অপরিচিতার উত্তর।
"আমি আপনাকে চিনি না,জানি না।আমি কেন আপনার সাথে কথা বলবো?"আরিফের জবাব।
ওপাশ থেকে রহস্যময়ী খিল খিল করে হেসে উঠলো।হাসি শুনে আরিফ কেমন যেন আনমনা হয়ে গেলো।স্মৃতির পাতা থেকে
কিছু একটা ভেসে উঠতে গিয়েও উঠলো না।এ হাসি আরিফের অপরিচিত না,এ হাসির মালিক এর মুখটা আরিফের
স্মৃতির মানস্পটে ভেসে উঠলো।নিজের ভাবাবেগ কে চাপা দিয়ে আরিফ বলল?
"হাসছেন কেন?"
ওপাশ থেকে আবার হাসি শোনা গেলো।
"ওমা হাসতে মানা আছে নাকি?আগে বলবেন না?আচ্ছে আর হাসবো না।"
তবে তার হাসি থামানোর কোন লক্ষন দেখা গেলো না।সে ক্রমাগত হেসে চলেছে।
আরিফের খুব খারাপ লাগতে লাগলো।আবার সেই কষ্টের স্মৃতি মনে পরে যাচ্ছে।সে তাড়াতাড়ি বলল
"অনেক রাত এখন,আমি ঘুমতে যাবো।ভালো থাকবেন"।
ওপাশ থেকে হাসি থেমে গেলো।আরিফ কেবল ফোন টা কান থেকে নামাতে যাবে এমন সময় ওপাশ থেকে খুব ঠাণ্ডা গলায় খুব
আদর করে কেউ বলল "আরিফ তুমি কি আমাকে ভুলে গেছো?"
আরিফের মনে হলো তার বুকে কেউ যেন একটা চাকু ঢুকিয়ে দিয়েছে।এই সেই ভয়েজ,সেই আদুরে করে আরিফ ডাকা
,এটা কিভাবে হতে পারে?হ্রিদিতা কিভাবে ফিরে আস্তে পারে?ও তো আমাকে ছেড়েও চলে গিয়েছিলো।বলেছিলো আর
কখনো ওর কাছে আসবে না,ওর সাথে কথা বলবে না।
আরিফ প্রায় এক মূহূর্ত দম আটকে রেখে বলল
"হৃদিতা?তুমি?"
আবার হাসি শোনা গেলো।
"যাক মশাই তাহলে আমাকে চিনতে পেরেছেন?কেমন আছো আরিফ?"
আরিফ খুব আস্তে করে বলল
"তোমার তো ভালো জানার কথা আমি কেমন আছি?ছেড়ে তো আমাকে তুমি গিয়েছিলে?"
হৃদিতা এবার শান্ত ভাবে বলল
"তুমি কখনো জানার চেষ্টা করোনি কেন আমি তোমাকে ছেড়ে গিয়েছিলাম?কেন চেষ্টা করোনি আরিফ?"

আরিফ কয়েকসেকেন্ড কথা বলতে পারলো না।তার পর বলল
"তুমি আমাকে বলেছিলে তুমি আর আমার কাছে আসবে না,আমার সাথে কথা বলবে না,আমাকে নিষেধ করেছিলে তোমাকে ফোন দিতে,তোমার সাথে দেখা
করতে?তাইনা? তাহলে দোষ কি আমার?"

দ্বীর্ঘশ্বাস ভেসে এলো ওপাশ থেকে।
"হ্যাঁ আমি তোমাকে মানা করেছিলাম,ভেবেছিলাম সেটাই মনে হয় ভালো ছিলো"

"কেন হৃদিতা?আমি তো অনেক ভেবেও তোমার এই হটাত চলে যাওয়ার কারন ভেবে পাইনি।না আমাদের ঝগড়া হয়েছিলো,না আমাদের ফ্যামেলি বিয়ে ঠিক করেছিলো। ?"

"আরিফ তোমার মনে আছে,তুমি কলেজ লাইফে আমাকে বলতে যে কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলো সামনে থেকে অদৃশ্য থাকে?মনে আছে তোমার? "

"কেন মনে থাকবে না?রহিমের ক্যান্টিন এ বসে তোমাকে বলেছিলাম এই কথা।"

"তোমার আমার ভালোবাসার ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে আরিফ,এমন কিছু বিষয় ছিলো যেটা আমি তুমি এক সাথে বসে দেখতে পারি নি,যখন দেখেছি তখন আমি তোমাকে এর মাঝে আনতে চাই নি"।

"কি সেই বিষয় যার কাছে তোমার আমার ভালোবাসাও তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিলো? আমি মনে করতাম আর যাই হোক তুমি অন্তত আমাকে ছেড়ে যাবে না"

"জিজ্ঞেস করো না কেন আমি চলে গিয়েছিলাম,আমি উত্তর দিতে পারবো না।এখন বলো তুমি কেমন আছো?বিয়ে করেছো?"

আরিফ এক মূহুর্ত থেকে বলল
"তোমার কি মনে হয় আমি বিয়ে করেছি?"

আবার ওপাশ থেকে সেই ভূবন ভোলানো হাসি শোনা গেলো।
"আরিফ তোমার মনে আছে আমি একটা সময় আমি তোমাকে বলতাম তোমাকে আমার চেয়ে ভালো করে কেউ চেনে না?মনে আছে তোমার?"

"তোমার যদি মনে হয় তুমি আমাকে এতো ভালো করে জানো তাহলে তোমার এটাও জানা থাকার কথা আমি সহজে কিছু ভুলি না"

"হুম,জনাব সহজে কিছু ভোলেন না।আমার ধারণা তুমি এখনো বিয়ে করনি ।অবশ্য তোমার বয়স খুব বেশী না,বিয়ে না করে আরো ২-৩ বছর অনায়েসে কাটাতে পারবে"

"তাই নাকি?"
"হুম,তুমি অনেক হ্যান্ডসাম ছিলে কলেজ লাইফে।তাইতো তোমার প্রেমে পরেছিলাম।নাহলে যার পেছনে গোটা কলেজের ছেলেরা ঘুরতো সে তোমার
প্রেমে কেমনে পরে?"

"তুমি কি নিজের প্রশংসা করছো নাকি আমার লেগ পুলিং করছো?"

আবার হাসি শোনা গেলো।
"কোনটাই করছি না,শুধু স্মৃতিচারণ করছি"।

"তুমি এখন কোথায় হৃদিতা?"

"আমি?তোমার খুব কাছে আছি।খুব কাছে।"
"ঠাট্টা রাখো,সিরিয়াসলি বলো কোথায় আছো?"
"আমি ঢাকাতে আছি আরিফ,গতকাল এসেছি"
"আমার ফোন নম্বর পেলে কি করে?মিনহাজ দিয়েছে?"

"হুম,মিনহাজ এর সাথে আমার ইউকে যাওয়ার পরো যোগাযোগ ছিলো"

"তুমি বিয়ে করেছো হৃদিতা?"

"তোমার কি মনে হয়?"

"আমার একটা সময় পর্যন্ত্ নিজের ওপর ভরসা ছিলো যে আমি তোমাকে সবচেয়ে ভালো জানি,যে দিন তুমি চলে গেলে সেদিন বুঝলাম আমি ভুল জানতাম,কোন আইডিয়া নাই তুমি বিবাহিত না অবিবাহিত"

"আমি এখনো বিয়ে করিনি আরিফ?"
"কেন?"
"কারো পথ চেয়ে আছি?"
একটা হালকা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আরিফ জিজ্ঞেস করলো  "কার?"
"তোমার,ইউ ঈডিয়েট"
বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠলো আরিফ "মানে?আমার অপেক্ষা করছো?ডোন্ট প্লে উইথ মি হৃদিতা।যদি আমার জন্যই অপেক্ষা করছো তাহলে ছেড়ে গিয়েছিলে কেন?"
"আরিফ আজ থেকে এক বছর আগে আমি যখন চলে গিয়েছিলাম তখন তোমাকে আমি একটা বই দিয়েছিলাম মনে আছে?"
"থাকবে না কেন?আমার বেডের পাসের টেবিলে আছে বইটা"
"ওটা বের করো।"
টেবিল হাতরে বইটা বের করলো আরিফ।বইটা হাতে নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল "বের করেছি,এবার?"
"বইটার ৩২০,৩২১,৩২২,৩২৩,৩২৫ নম্বর পেজ গুলো দেখো।"
তারাহুরো করে আরিফ বইটা খুলে পেজ গুলো দেখলো।খেয়াল করে দেখলো তিনটা পেজ এ প্রায় ৪০ টা শব্দ পেন্সিল দিয়ে হাল্কা করে মার্কা করা।
ফোনে কথা ভেসে এলো "আরিফ তোমার অনেক শখ ছিলো ডিসাইফার এবং এম্বিগ্রাম নিয়ে গবেষনা করার।তোমার কাছ থেকে শিখেই একটা জিনিস দিয়েছিলাম তোমাকে।দেখি ডিসাইফ করতে পারো কিনা"

আরিফ ফোন লাউডস্পিকারে দিলো।একটা নোটপ্যাড টেনে নিয়ে শব্দগুলো লিখতে লাগলো।ডার্কার মেথডে মিলাতে না পেরে এ্যাম্বিগ্রাম এর মেথড এ ট্রাই করলো।করতেই অর্থ বের হয়ে আসতে লাগলো।সব গুলো শব্দ মিলে বাক্যটা দাড়ায়

-আমি চলে যাচ্ছি,আমি চাইনা আমার সল্প সময়ের জীবন কে তোমার জীবনের সাথে যুক্ত করে তোমাকে কষ্ট দিতে।যদি ভালো হয়ে ফিরে আস্তে পারি নিজেই আমি তোমার কাছে আসবো।নাহলে হারিয়ে যাবো অনন্ত্য মহাকালে

আরিফ লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বলল
"এসবের মানে কি হৃদিতা?কি হয়েছিলো তোমার?"

"একটু আগে বলেছিলাম না জিজ্ঞেস করো না জবাব দেবো না?"

"হ্যাঁ বলেছিলে"

"আরিফ তুমি কি আমাকে এখনো ভালোবাসো?"

"কি মনে হয়?"

হাসির শব্দ শোনা গেলো।
"আমি জানি তুমি আমাকে এখনো ভালোবাসো।তুমি আমাকে কোন দিন তোমার মন থেকে বিদায় দিতে পারবে না আরিফ।কারণ আমাদের ভালো বাসা সত্য ছিলো"

"আর তুমি?"

"মাঝরাতে তোমাকে ফোন দিয়ে কথা বলছি।এক বছর আগে দেয়া একটা এ্যম্বিগ্রাম দেখিয়েছি।সেটা তুমি ডিসাইফ ও করেছো।তারপর ও জিজ্ঞেস করছো আমি তোমাকে ভালোবাসি কিনা?"

"আচ্ছা বুঝলাম তুমি আমাকে ভালোবাসো।কিন্তু হৃদিতা একটা কথা আছে মাঝখানে।এক বছর আগে এক বিকেলে তুমি টিএসসি তে আমাকে বলেছিলে তোমাকে ভুলে যেতে,তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে,যোগাযোগ না করতে।একটা বই দিয়ে তুমি আমার লাইফ থেকে চলে গিয়েছিলে।আজ এক বছর পর মাঝরাতে আমাকে ফোন দিয়ে বলছো তুমি আমাকে ভালোবাসো,আমার হতে চাও,একটা অ্যাম্বিগ্রাম ও দেখলে এক বছর আগের।তুমি আমার জীবনে ফিরে আসতে চাও।২৯ মিনিটের ফোন আলাপে এতো কিছু হজম করতে একটু কষ্ট হছে আমার।যে কারো হবে।"

"খুবই স্বাভাবিক আরিফ।তোমার বিশ্বাস না হওয়ার কথা।কি করলে বিশ্বাস করবে তুমি?"

"কাল সকালে আমার অফিস আছে।আমি ১২টায় একটা মিনি ব্রেক এ বের হবো।তুমি টিএসসির সেই খানে আসবে যেখানে তুমি আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে। গায়ে থাকবে একটা কালো শাড়ি,আমার প্রিয় রং এর। আসবে?"

"আমি আসবো আরিফ,আমি আসবো"

"তাহলে সেখানেই তোমার সাথে দেখা হবে আমার,সেই পর্যন্ত ভালো থেকো।"

"তুমিও"

ফোন রেখে আকাশ পাতাল ভাবতে লাগলো আরিফ।এ কি হচ্ছে?এব বছর পর?হৃদিতা?না কি এতোক্ষন যে হলো সব আমার হ্যালুসিনেশন? নোটপ্যাডের দিকে তাকালো।সেখানে লেখাগুলো এখনো দেখা যাচ্ছে।আরিফ কি মনে করে ফোনে এর ইনকামিং নম্বর টা চেক করে সেভ করে রাখলো।তারপর বই এর সব পেজ এবং নোটপ্যাডের সব লেখার ছবি তুলে রাখলো ফোনে।হ্যালুসিনেশন হলে এসব ছবি সকালে পাওয়া যাবে না।

বেশ সকালে একটা ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে ঘুম থেকে উঠলো আরিফ।মনটা আজ অনেক ভালো।সত্যই যদি হৃদিতা ফিরে আসে তাহলে আরিফের জীবনের কাছে আর তেমন কোন চাহিদা নেই।

রেডি হয়ে অফিসে গেলো আরিফ।কাজ এ ঠিক মতো মন বসাতে পারছে না।সময় যতো আগাচ্ছে আরিফের মন তত অশান্ত হচ্ছে।সকালের সেই ফুরফুরে মেজাজ আর নেই।এর মধ্যে একটা গোটা পেজ প্রোগ্রামিং করতে গিইয়ে ৭০ জায়গায় ভুল করেছে।পাশের কিউবিকল এ বসা সবুজ ১৫ বার তাকে বলে দিয়েছে যে কোডিং এ ভুল আছে।আরিফ কিছুতেই মন বসাতে পারছে না।১১ টা বাজতেই আরিফ সবুজ কে ডেকে কাজ বুঝিয়েদিয়ে দৌড় দিলো,নিচে এসে নিজের বাইকে চেপে রওনা দিলো টি এস সির উদ্দেশ্যে।পথে হৃদিতার জন্য কিছু গিফট কিনলো।নিজের ব্যবহার এ আরিফ নিজেই অবাক।তার মন বলেছে হৃদিতা ফিরে আসছে।বুদ্ধি বলছে অফ সাইডের বল দেখে শুনে খেলতে হয় বন্ধু।আরিফ নিজের ভেতরে কনফিউশন কে চাপা দিয়ে সোহরাওয়ার্দ্দী উদ্যান এর গেটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো।
একটু পর আরিফ একটা সিগারেট ধরালো।১২ টা বাজতে এখনো ১৫ মিনিট বাকি।হৃদিতা সিগারেট খাওয়া পছন্দ করে না।তাই ওর সামনে কখনো সিগারেট ধরাতো না আরিফ।কিন্তু ও কেমন করে যেন বুঝ যেতো যে আরিফ সিগারেট খেয়েছে।বকা দিতো অনেক।আজ সেসব কথা মনে পরতেই আপন মনে হেসে উঠলো আরিফ।যাই হোক হৃদিতার আসতে এখনো বেশ কিছু সময় আছে।এর মধ্যে দুইটা সিগারেট অন্তত খাওয়া যাবে।প্রথমটা ধরিয়ে কেবল চারটা টান দিয়েছে আরিফ,পেছন থেকে আওয়াজ ভেসে এলো?
"তুমি এখনো সিগারেট খাওয়া ছাড়োনি?" আরিফ হেসে ফেলল।পেছন না ফিরেই আগে সিগারেট তা ফেলে পা দিয়ে মাড়িয়ে দিলো।তারপর পেছনে ফিরলো।দাড়িয়ে আছে হৃদিতা। আরিফের হৃদিতা.

তবু ও শুধু অপেক্ষা ..... !!!

[[ By: Hriday Ahmed ]]



হঠাৎ ঘুম ভাঙার পর জানালার পর্দা ভেদ করে মৃদু আলো চোখের ওপর পরাতে শরীরের কম্বলটা টেনে মাথাটা ঢেকে নিজেকে জড়সড় করে আবার ঘুমাতে চেষ্টা করলাম। এক চোখে প্রচণ্ড ঘুম ভাব থাকা সত্তেও আর এক চোখ যেন ঘুম না পারার দলে। এক চোখ খোলা রেখেই বালিশের পাশে থাকা মোবাইলটা হাতে নিয়ে সময়টা দেখলাম। সময় তখন সকাল ১০.৩০ মিনিট।

কি যেন মনে হতে লাগল ঠিক এই সময়টাতে। কি যেন করতে হবে সকাল ১০.৩০ মিনিটে ঠিক মনে করতে পারছিনা। প্রতিদিনই তো এই সময়টাকে ঘিরে কিছু একটা করতে হয় আমাকে কিন্তু আজ কেন মনে পড়ছে না ? ভাবছি হয়ত মনের ভুল, তাই ভেবে নিরব হয়ে দুই চোখের পাতা বন্ধ করে ভাবনার সাগরে ডুব দিলাম। হ্যাঁ মনে পড়ছে কি করতে হবে আমাকে। ভেবেই আমি আনন্দিত কিন্তু কাজটা করার পর কতটুকু আনন্দিত হবো তা একমাত্র ওপরওয়ালা ছাড়া আর কাউকে বুঝাতে পারবনা।

প্রথম তোমার কণ্ঠস্বর শুনে দিনের শুরু করতে হয় আমাকে এই সমটাতে। জানি তোমার ফোন ১০ মিনিট কম ১১টাতেই সুইচ অন করবে। তারপরও কেন জানি ঠিক ১০.৩০ থেকেই তোমার ফোনে ট্রাই করতে ভালো লাগে ঠিক এই কথাটার জন্য যে, তোমার মত তারছিরা পাগল আমি আমার জিন্দেগিতেও দেখিনাই যে কিনা গত ১ বছর যাবত একই সময়ে একই কথা বলার জন্য অনবরত ফোনে ট্রাই করে যায়, শুভ সকাল চান্দু, লাভ ইউ।

শুরু হল আমাদের কথা চলা। দুপর ২টা পর্যন্ত চলবে আমাদের এই ননস্টপ কথা বলা। চলে আসবে অনেক রকম কথা বার্তা, হাসি কান্না, সুখ দুঃখ এমনকি হাজার বার একই কথা, বিছানা থেকে ওঠে বিছানার ওপর একটু রহম করোরে বাবা। শুধু চুপটি করে কথাগুলো হজম করতাম আর ভাবতাম, আল্লাহর অসীম মহিমা দ্বারা সৃষ্টি তুমি। কখনও কি পারবো আমার এই চান্দুটাকে একা ফেলে দূরে কোথাও চলে যেতে ? মনে পড়ে সেইদিনের কথাগুলো ?

আজও আমি সেই ধ্যান ধারনা, চিন্তা ভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে পারি নাই। আমাকে আজও অপেক্ষা করতে হয় ঠিক এই সময়টার জন্য। রাতে যত দেরি করেই ঘুমাই না কেন ঘুম ভেঙ্গে যায় এই সময়টাতেই। ফোন চেক করে দেখি ভুলবশত যদি ১টা ফোন আমাকে করে ফেল ? তাহলেই হয়ত একটু কথা বলার সুযোগ পেয়ে যাবো। তাই আজও আছি আমি অপেক্ষায়।

প্রতিটা মানুষ সুখের স্বপ্ন দেখে, আমিও দেখেছিলাম তোমায় নিয়ে যা তুমি ভেঙ্গে দিলে। কেমন করে পারলে তুমি ? মনে আছে তোমার সেইদিন গুলোর কথা, মনে পড়ে আমাদের দুঃখ আনন্দের দিন গুলো ? হয়তো মনে পরেনা, তাইতো আজ তোমায় প্রশ্ন করি তোমার ভালোবাসায় কি সত্যতা ছিলনা ? তোমার কান্না কণ্ঠের কথাগুলোও কি মিথ্যা ছিল ? মাঝে মাঝে ভাবি কি অন্যায় ছিলো আমার, তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখাটা নাকি তোমায় অনেক ভালবাসাটা ! বদলে গেছ তুমি তাইতো আজ আমি তোমার কাছে অচেনা মানুষ।

পৃথিবী হটাত্ই যেনো স্তব্ধ হয়ে গেছে আজ । চারিদিকে হাকাকার। হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসায় বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ ও স্বপ্নময়তায়, স্বপ্নেই বেঁধেছিলাম তোমায় তাইতো যন্ত্রণাময় অসীম আক্ষেপ আমায়। জানিনা কখনও কারো ছিলাম কিনা। শুধু জানি ভালবাসি তোমায়। যে হেরে যায় তাকে পরাজিত বলা হয় না, পরাজিত তাকেই বলা হয় যে জিততেই চায় না। আমি তো তোমাকে ছেড়ে যায়নি, এখন তুমিই বল তুমি জয়ী হলে নাকি আমি হেরে গেলাম তোমার কাছে ?

ভালোবাসাবাসিহীন এই দিন সব নয়, শেষ নয়, আরো দিন আছে, ততো বেশি দূরেও নয় বারান্দার মতো, যেন ঠিক দরোজার কাছে। যখন তোমাকে অনুভব করি আমার পৃথিবী কিছুক্ষনের জন্য থমকে যায়, হয়ত তোমার মধ্যে পৃথিবী ছাড়া কিছু আছে। সত্যি, লোকে বলে মন থেকে ভালবাসলে ভালোবাসা একদিন না একদিন জীবনে ফিরে আসেই। একা একা আর দিন কাটেনা, মনের ভিতরের অঘটনগুলো আর কতকাল বেঁধে রাখব সেথায় ভরসার জলে কান্না শুনিয়ে তোমাকে বলতে চাই, মেয়ে ফিরে এসো, এসো না ফিরে ......... জানিইতো আর আসবেনা।

শুক্রবার, ২ মার্চ, ২০১২

এক দুপুরের ভালবাসা


এক দুপুরের ভালবাসা

সকাল সাতটা বাজেএই সময় কে এল ! অদ্ভুত ঘড়ঘড়ে শব্দ বের হয় মিলাদের পুরনো সরকারি কোয়ার্টারের বেল থেকে বেলের শব্দে মিলার ঘুম ভেঙ্গে গেলমিলার মা ততক্ষণে দরজা খুলেছেমিলা খাটে উঠে বসতেই নীলা ঢুকল ওদের ঘরেঘরটা ওদের তিন বোনেরমিলা, নীলা আর ইলা

মিলা বড় বোনবিয়ে হয়েছে আজ চার বছর ভালবাসার বিয়ে মিলা আর ফরহাদের ওদের গভীর প্রেম অনেকের কাছেই ঈর্ষনীয় ছিলখুব বেশী ভালবেসেছিল মিলা ফরহাদকেমধ্যবিত্ত পরিবারে প্রেমের বিয়ে মানে একশ একটা বাধাতবু সব কিছু পেরিয়ে তারা এক হতে পেরেছিল মিলার সাহসের কারনেসবকিছু ঠিকঠাক ছিলকিন্তু ধীরে ধীরে সবকিছু রূপ পালটাতে থাকেকোটিপতির ছেলে ফরহাদ বিয়ে করেছে মধ্যবিত্ত ঘরের খুব সাধারন মেয়ে মিলাকেফরহাদের মা কি করে তা মেনে নেয় ! ছেলের মুখের দিকে চেয়ে মিলাকে ঘরে তুললেও তিনি নানা রকম ঝামেলা করতে লাগলেন ফরহাদ আর মিলার সম্পর্কে চিড় ধরানোর জন্যমা ভক্ত ফরহাদের কাছে মনে হত , মিলা চাইলেই পারে তার মায়ের সাথে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতেমিলা কিছুতেই শাশুরির আসল চেহারাটা ফরহাদের কাছে তুলে ধরতে পারেনিতাছাড়া সে নিজেও চায়নি তার কারনে মা ছেলের সম্পর্ক খারাপ হোকতাই যতই দিন যেতে লাগলো , ফরহাদ মিলাকে শুধুই ভুল বুঝতে লাগলো

একদিন ফরহাদ মায়ের কথায় কান দিয়ে খুব বেশী জঘন্য ব্যাবহার করে বসলো মিলার সাথেআর মিলাও ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে এলআজ দু মাস ধরে মিলা বাবার বাড়িতেফরহাদ একবারও তাকে নিতে আসেনিতবু মিলা জানে ফরহাদ বেশীদিন ওকে ছেড়ে থাকতে পারবেনাশীঘ্রই ওকে ফিরিয়ে নিতে আসবে    

সকাল বেলা বেল বাজতে মিলা তাই চমকে উঠে বসেছিলএক পলকের জন্য তার মনে হয়েছিল,ফরহাদ নয়তো! একটা সুন্দর স্বপ্নও দেখছিল মিলাসে আর ফরহাদ বুড়িগঙ্গার তীরে কাশবন ধরে হেঁটে যাচ্ছেওই জায়গাটায় প্রায়ই ওকে নিয়ে যেত ফরহাদওদের খুব পছন্দের জায়গাকিন্তু ফরহাদ আসেনি, এসেছে নীলানীলা মেজ বোনওদের ভার্সিটি থেকে পিকনিকে গিয়েছিল সিলেটে, পাঁচ দিনের জন্যকিন্তু আজ তো সবে মাত্র তিন দিন হলনীলা ফিরে এলো যে!

 “কিরে নিলু, তোর পিকনিক কি তিন দিনেই শেষ হয়ে গেল নাকি ?” হাই তুলতে তুলতে জিজ্ঞেস করল মিলা
না আপাআমার শরীরটা কেন যেন ভাল লাগছিলনা তাই পিকনিক ছেড়ে চলে এসেছি মিনুর সাথে এসেছি,একা আসিনিনীলার কণ্ঠ কেমন যেন চাপা চাপা
অমা,সেকি! মায়ের সাথে তো এই পিকনিক যাওয়া নিয়ে কত ঝগড়া করলিরীতিমত যুদ্ধ করে গেলিআর আজই ফিরে এলি! শরীর বেশী খারাপ নাকি রে ?” নীলার কপালে হাত রাখল মিলাজ্বর নেইবরং বেশী ঠাণ্ডামিলা চিন্তিত মুখে দেখল নীলাকেকেমন যেন উদাসীন হয়ে আছেআনন্দ করতে গিয়ে উল্টো মনমরা হয়ে ফিরল মেয়েটা
নিলু, বন্ধু বান্ধব কারো সাথে কিছু হয়নি তো ? ”     

চমকে উঠল নীলা, “না আপাযাহ, কিযে বলনা আমি যাই,গোসল করে আসিখিদে লেগেছে খুবমাকে ভাত দিতে বল

নীলা চলে যেতেই ইলা ঢুকল ঘরেইলা হল ওদের ছোট বোনইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পরেকিন্তু স্বভাব চরিত্র এখনো বাচ্চাদের মতঘরে ঢুকেই লাফ দিয়ে খাটে উঠে মিলাকে জাপটে ধরল
আপু,তুই কখন উঠেছিস...
এই তোর লজ্জা করেনা ? এত বড় বোনকে তুই তুই করে ডাকিসসাত সকালে কই গিয়েছিলি ?”

ইলা কথা এড়িয়ে বলল, “নিলু গাধীটা নাকি ফিরে এসেছে ? হিহি,খুব ভাল হয়েছে মনে তো হচ্ছিল পিকনিকে না গেলে ও মরেই যাবে এখন গিয়ে মরলহা হা...হেসে গড়িয়ে পরল ইলাইলা আসলে গিয়েছিল ওদের বাসার ছাদেছাদে খুবই ছোট্ট টিনের একটা চিলেকোঠার ঘর আছেসেখানে একজন থাকেনাম মাহবুবইলাদের গ্রামের বাড়ির দূর সম্পর্কের আত্মীয়ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে এখানে পড়তে এসেছেএই শহরে আর কোথাও থাকার জায়গা না পেয়ে ওদের এই টানাটানির সংসারে বাড়তি বোঝা হিসেবে ঠাই হল এই চিলেকোঠার খুপরিতে মাহবুবকে প্রথম দেখেই তার সামনেই হাসতে হাসতে খুন হয়েছিল ইলামোটা ফ্রেমের চশমার ভেতর বড় গোল গোল চোখ আর তেল চুপচুপে চুল সিথি করে আঁচড়ানো চেহারাটাও একদম গোবেচারাএরপর থেকে ইলার নিত্যদিনের মজায় যুক্ত হল মাহবুবউঠতে বসতে তাকে অপদস্ত করে ছাড়ে ইলা

মাহবুব ভাই, আপনার চেহারাটা কে সহজ বাংলায় কি বল জানেন ? ম দ ন , মদনহাহাহা“ “আপনি এমন নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটেন কেন মাহবুব ভাই? এমনিতেই তো কানাবাবা, কোনদিন যে উশটা খেয়ে পরবেন কে জানে

এত পড়াশোনা করে লাভ নাই মাহবুব ভাইআপনার মত বলদের কপালে বউ জুটবেনা কনদিন,বুঝলেন ? হিহিহিসে কি হাসি ইলারওর হাসির দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে মাহবুবকিছুই বলতে পারেনা
আরেকদিন তো ছাদে গিয়ে জানালা দিয়ে মাহবুবের পড়ার টেবিলে তেলাপোকা ছেড়ে দিলমাহবুব ইলার কর্মকাণ্ড কিছুই বুঝে উঠতে পারেনা তবে একটা জিনিস সে খুব স্পষ্টই  বুঝেছেইলা মেয়েটা তার প্রেমে পড়েছে যেমন তেমন পড়া না, ভাল মতই পড়েছেএমন ভাবে পড়েছে যে ওঠাটা খুব কঠিন একদিন সন্ধ্যা বেলা মাহবুব ঘুম ভেঙ্গে উঠে দেখে ইলা তার জানালায় দাঁড়িয়ে হুহু করে কাঁদছেতাকে চোখ মেলতে দেখেই দৌড়ে পালালযে কোন বাহানায় সে সারাক্ষণ ছাদে ঘুরঘুর করেসেটা যে মাহবুবের জন্য তা মাহবুব যানে ইলার ব্যাপারটা নিয়ে মাহবুব খুব চিন্তিত ছিলঘরে জানাজানি হলে একটা কেলেঙ্কারি হবেতার মত গরীব আশ্রয়ী ছেলের ভালবাসা সাজেনাভালবাসা তাদের জন্য পাপ তাকে যেভাবেই হোক ইলার কাছ থেকে দূরে থাকতে হবেসেই ব্যবস্থাও সে ইতিমধ্যে করে ফেলেছে

.........................................................................................................................................................
 সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমেছে মিলার আজকে সারাদিন কেটেছে শুধু অপেক্ষায়মিলা ধরেই নিয়েছিল আজকে ফরহাদ আসবেইআজকে একটা বিশেষ দিনঅভিমান করে যতই থাকুক , আজ মিলার অভিমান ভাঙাতে আসবেই সেমিলা তো সেই কবেই ফিরে যেতে চেয়েছিলসে শুধু অপেক্ষা করে আছে কবে ফরহাদ নিজে এসে তাকে নিয়ে যাবে সেদিনের অপেক্ষাতেই মিলা আজো ফিরে যায়নি সারাটাদিন সবার সামনে খুব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছে মিলাতবু ক্ষণে ক্ষণে চমকে উঠেছেপায়ের আওয়াজ পেলেও মনে হয়েছে ফরহাদ এসেছেসন্ধার সময় যখন দরজায় বেল বাজল , দৌড়ে গিয়েছিল মিলানাহ, ফরহাদ আসেনিপোষ্টম্যান একটা খাম দিয়ে গেল খামের ভিতর ছিল ডিভোর্স লেটারফরহাদ পাঠিয়েছেসাথে একটা ছোট চিরকুট তাতে লেখা , “মিলা,তোমার সাথে এম্নিতেও আর থাকতে পারছিলাম না আমিভালই হয়েছে তুমি নিজ থেকে চলে গিয়েছতারপরও আলাদা হবার আনুষ্ঠানিকতাও সেরে নেয়া দরকারডিভোর্স লেটার পাঠালাম সাইন করে দিয়োমিলা কিছুই করলনা কাউকে কিছু বললও নাতার বিশ্বাস করতে খুব বেশী কষ্ট হচ্ছেকিন্তু ডিভোর্স লেটারে সাইনটা ফরহাদেরই সাইনের নীচে তারিখটার দিকে চোখ গেলআজ একটা বিশেষ দিনআজ তাদের বিবাহ বার্ষিকীসাইন করার সময় ফরহাদের কি তারিখটা মনে পরেনি !

 ............................................................................................................................................................

সেই সন্ধ্যা থেকে বাতি নিভিয়ে শুয়ে আছে নীলাসবাইকে বলেছে তার নাকি মাথা ব্যথাঅন্ধকার বলে দেখা যাচ্ছেনা কিন্তু চোখের পানিতে নীলার বালিশ ভিজে একাকার হয়ে গেছেনীলার নিজেরই নিজেকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে হচ্ছে এত বড় ভুল সে করল কেমন করে ! ফাহিম নীলার বয়ফ্রেন্ডওরা একসাথেই পরে এবং প্রেমের প্রায় এক বছর হতে চললখুব গোপনে কাজটা করেছে নীলা যেন বাসার কেউ ঘুনাক্ষরেও টের না পায়সিলেটে ওদের সাথে ফাহিমও ছিলফাহিমের সাথে কিছুদিন থাকতে পারবে সেই জন্যই এত ঝামেলা করে সিলেট গিয়েছে সে অথচ ফাহিমের জন্যই তো এত বড় ভুল করে ফেলল নীলাভুল তো নয়, এ যে পাপ ! সারা শরীর কেঁপে উঠল নীলারঅনেক বড় পাপ করে ফেলেছে সেএই পাপ ধোয়া যায়না দু ঘণ্টা ধরে গোসল করে জ্বর আনিয়ে ফেলেছে , তবু যেন শরীর থেকে পাপ যায়নি অপবিত্র শরীর পবিত্র হবেনা আর কোনদিনভালবাসার মোহে ভেসে গিয়ে এ কি করে বসল সে? ফাহিমের হাতে এভাবে নিজেকে সঁপে দিলএকবারও তার মনে হল না সে কি করতে যাচ্ছে ? পরদিনই তাই তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছে নীলাপাপের বোঝা মাথায় নিয়ে

..............................................................................................................................................................
 আজ ভরা পূর্ণিমামিলাদের পলেস্তারা খসে পড়া পুরনো বাড়িটা চাদের রুপালি আলোয় ঝলমল করছেইলা তাদের ছোট্ট বারান্দাটায় বসে আছেচাঁদের আলোয় গাছের পাতারা অপূর্ব সব নকশা সৃষ্টি করেছে বারান্দায়সেদিকে তাকিয়ে ইলার চোখ জলে ভিজে এলোসন্ধ্যায় একবার ছাদে গিয়েছিল সে দেখল মাহবুব ছাদে বেরিয়েছে

এই যে মি..মদন একা একা ছাদে দাঁড়িয়ে কি করেন?”
 “তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম ইলাশান্ত স্বরে বলল মাহবুবইলার হাসি মিলিয়ে গেলমাহবুব কি বলল এটা !

আ আ আমার জন্য !ইলা কথা খুঁজে পেলনা

ইলা, তোমার একটা জিনিস আমার কাছে রয়ে গেছে তুমি একটু দাঁড়াও আমি নিয়ে আসছি মাহবুব ওর ঘরে গিয়ে সেই প্লাস্টিকের তেলাপোকাটা নিয়ে এলো, যেটা দিয়ে ইলা ওকে ভয় দেখিয়েছিল
নাও ইলাইলা কাঁপা কাঁপা হাতে নিল ওটাসে কিছুই বুঝতে পারছেনা কি হচ্ছে
ইলা, আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম
কেন?”
আমার হলে সিট হয়ে গেছে ইলা আমি কাল চলে যাচ্ছি , হলে উঠবো তুমি ...তুমি ভাল থেকোবলেই চট করে ওর রমে ঢুকে গেল মাহবুবওর চোখের জল ইলাকে দেখাতে চায়না সেএই অবুঝ মেয়েটাকে কখন যে এতটা ভালবাসে ফেলেছে সে নিজেও টের পায়নি কাল থেকে এই দুষ্টু মেয়েটা তাকে আর জালাতন করবেনাইলা পাথরের মত দাঁড়িয়ে ছিল ছাদেইচ্ছে হচ্ছিল তখনি ছাদ থেকে ঝাপ দেয়, অথবা ...অথবা দৌড়ে গিয়ে মাহবুবকে জড়িয়ে ধরে বলে, “আপনি কোথাও যেতে পারবেনা আমি আর কোনদিন আপনাকে জালাবনা,বিরক্ত করবনাকিন্তু আপনাকে আমি কোথাও যেতে দিবনা,কোথাওনাএসব কিছুই করলনা ইলাচুপচাপ নীচে এসে বারান্দায় বসে রইল

.......................................................................................................................................... ইলার চোখ কিছুতেই বাঁধ মানছেনা অনবরত কেবল জল গড়াচ্ছেকান্নার বেগে ইলা কেঁপে কেঁপে উঠছেনীলা কখন যে বারান্দায় এসে দাড়িয়েছে ইলা দেখেইনি নীলা আসতে করে ইলার কাধে হাত রাখলইলা চমকে উঠে নীলাকে দেখেই ওকে জড়িয়ে ধরলনীলাও কাঁদতে লাগলো ইলার সাথে সাথেঅথচ দু জনের কেউই জানেনা একজন এরেকজনের দুঃখতবু তারা একসাথে কাঁদছেমিলা বারান্দায় এসে দেখে দুবোন জড়াজড়ি করে কান্না করছে

নিলু,ইলু......কি হয়েছে তোদের ? ”
ইলা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলল , “আপু রে, ভালবাসায় কি খুব কষ্ট রে আপু ?”
নীলাও কাঁদতে লাগলো, “বলনা আপা,ভালবাসালে কেন এত কষ্ট পেতে হয় ?”
মিলা দুজনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলকি জবাব দিবে সে !

ভালবাসা এই চাঁদের আলোর মত রেদেখ কত সুন্দর পাতার নকশাকিন্তু ধরতে গেলে নেই পুরোটাই মায়া বলেই আর কান্না সামলাতে পারলনা সেনীলা আর ইলাকে আরও শক্ত করে বুকে চেপে ধরলএই অপারথিব মায়াবি জ্যোৎস্না রাত্রিতে তিনটি দুঃখী মেয়ে কি যেন বুক ফাটা কষ্টে কেঁদেই চললতাদের ঘিরে চাঁদের আলোয় গাছের পাতার কি অপূর্ব নকশা বাতাসে কাঁপছে

এক দুপুরের ভালবাসা তেমন কিছুই নয়
আরেক দুপুর এলেই তাকে ভুলে যেতে হয়
এক দুপুরের ভালবাসায় দুটি চোখে জল
সেই জলে ডুব দিয়ে দেখ পাবেনা অতল
সেই অতলের মাঝে তুমি হবে নিরুদ্দেশ
একদুপুরের ভালবাসা আরেক দুপুরেই শেষ

মাধবীলতা