শনিবার, ১০ মার্চ, ২০১২

Note


একটা ১২ বছরের ছেলে একদিন রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল হঠাৎ সে দেখল মাটিতে একটা ছবি পড়ে আছে ছবিটি মাটি থেকে তুলে দেখল একটি ছোট্ট মেয়ের ছবি ছবিটি প্রথম দেখেই ছেলেটি ছবির ওই মেয়েটিকে ভালোবেসে ফেলে আসে পাশে অনেক খোঁজার চেষ্টা করে কিন্তু পায় না ছেলেটি ধীরে ধীরে বড় হয় এবং মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলে কিন্তু সে তার সেই প্রথম ভালোবাসার মেয়েটির ছবিটি খুব যত্ন করে রেখে দেয় একদিন তার বিয়ের হয়,  তার আলমারি গোছাতে গোছাতে তার স্ত্রী সেই ছবিটি দেখে, অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে "ছবিটি কার?" ছেলেটি বলে, "ছবিটি আমি ছোটবেলায় রাস্তায় কুঁড়িয়ে পেয়েছিলাম তখন থেকে ছবিটি আমার কাছেকিন্তু তুমি এত অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে কেন?"
স্ত্রীটি বলল - "আমি যখন ৯ বছরের ছিলাম তখন এই ছবিটি হারিয়ে ফেলেছিলাম :)"
সত্যি বলে লোকে মন থেকে ভালবাসলে ভালোবাসা একদিন না একদিন জীবনে ফিরে আসেই  

বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ, ২০১২

Post



একটা ছেলে আর একটা মেয়ে দুজন দুজন কে খুব ভালবাসত।

মেয়ে:: আচ্ছা তুমি কেনো আমাকে ভালবাস?

ছেলে ::তোমার মনের জন্য।

মেয়ে:: নাহ!মন দেখা যায় না।তুমি বল কী দেখে আমাকে ভালবাসলে??

ছেলে ::তোমার সৌন্দর্য দেখে।

এই কথা শুনে মেয়েটা খুব খুশি হল।এর কয়েকদিন পর মেয়েটা একসিডেন্ট করল।মেয়ের চেহারায় 
অনেক ক্ষতি হল।ছেলেটা মেয়েকে দেখতে হাসপাতালে আসলো।

মেয়ে:: "আমার চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে।আমি আর সুন্দর নই।এখন থেকে তুমি আমাকে আর ভালবাসবে 
না।"মেয়েটা কেদে ফেলল।

ছেলে:: "আমি তো আগেই বলেছিলাম আমি তোমার মন দেখে ভালবেসেছিলাম।রূপ হয়তো কমে গেছে 
কিন্তু তোমার মন তো আগের মতই আছে।তাই তোমাকে আগের মতই ভালবাসি।"

(অনুবাদিত)

বুধবার, ৭ মার্চ, ২০১২

শহরটাকে দিন জ্বালিয়ে

শহরটাকে দিন জ্বালিয়ে
চন্দন চৌধুরী


শহরটাকে দিন জ্বালিয়ে
আমরা শহর চাই না
বনের সবুজ বৃক্ষটা চাই
ছায়ার স্নেহ পাই না

ইটের গন্ধে প্রাণ জুড়ে না
আমরা রাখাল, তাই না!
চাই মাটি চাই গন্ধ সোঁদা,
মাটির গন্ধ পাই না

শহরটাকে দিন জ্বালিয়ে
আমরা শহর চাই না
একটা নদী পেতাম যদি
কত্তটা দিন নাই না।

" হারানো আমি "

" হারানো আমি "

by ভালবাসার ডাকপিয়ন (the cafe of love) on Wednesday, March 7, 2012 at 6:55pm ·
 
আজ অনেক দিন পর ময়মনসিংহ পার্কে হাঁটতে বের হয়েছি । হাঁটতে ভালই লাগছে। সেই সাথে এক ধরনের শূন্যতাও গ্রাস করছে। কাউকে হারানোর শূন্যতা। ময়মনসিংহ পার্কের এই পরিচিত রাস্তাগুলোতে অনেকবার টুসির হাত ধরে হেঁটেছি । আজ আর টুসি নেই । তাই একাই হাঁটতে হচ্ছে । টুসিকে আমার জীবন থেকে হারিয়ে ফেলেছি, প্রায় ছয় মাস হয়ে গেল । পার্কের রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে কালামের ছোট চায়ের দোকানটা চোখে পড়লো । অনেকদিন এই দোকানটাতে চা খাওয়া হয় না । ১২-১৩ বছরের কালাম নামের এই ছেলেটা অসাধারণ চা বানায় ।
টুসি আর আমি এই দোকানটাতে অনেকবার চা খেয়েছি । টুসি যে স্যার এর কাছে Physics প্রাইভেট পড়তো সেই স্যার এর বাসা ছিল পার্কের কাছেই । বিকালবেলা ওর প্রাইভেট শেষ হলে মাঝে মাঝেই আমাকে ফোন দিয়া পার্কে আসতে বলতো । বিকালবেলা ওর সাথে পার্কে হাঁটতে এসে প্রায়ই কালামের দোকানে চা খাওয়া হতো ।


দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কালাম ডাকল, `শাফিন ভাই,কই যান?’

এইতো, হাঁটতেছি ।‘
চা খায়া যান । অনেকদিন ধরে তো আসেন না । আফা আহে নাই ?’
কালামের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে দোকানে গিয়ে বসলাম ।

দোকানে গিয়ে বসতেই কালাম এক কাপ চা বানিয়ে হাতে দিল ।

চা খেতে গিয়ে টুসির কথা প্রবলভাবে মনে হচ্ছিলো ।
ও আমার জীবনে কেন এলো , আর কেনইবা কষ্ট দিয়ে চলে গেলো ?

মনে হচ্ছে , এইতো সেদিনের ঘটনা । পাশের বাসায় আসা নতুন ভাড়াটিয়ার সুন্দরী মেয়েটিকে হঠাৎ আমার নজরে পড়লো । সে দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার । কলেজ শেষ করে যখন বাসায় ফিরি তখন পাশের বাসার ২য় তলার বারান্দায় চোখ চলে যায় । দেখলাম , উদাস উদাস ভাব নিয়ে একটি মেয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে । প্রথম দেখাতেই মেয়েটিকে কেমন যেন ভালো লেগে গেলো । তারপর মাঝে মাঝেই মেয়েটির সাথে রাস্তায় দেখা হতো । কখনও দেখতাম বিকালে প্রাইভেটে যাচ্ছে , কখনও দেখেছি স্কুল টাইম এ রিকসার জন্য দাড়িয়ে আছে ।

একদিন হঠাৎ মাথায় ভূত চাপল টুসিকে রিকসার পেছন পেছন ফলো করে ওর স্কুল পর্যন্ত যাবো । যেই ভাবা সেই কাজ । ওর স্কুল টাইম এ বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে বের হলাম । কিছুক্ষন পরই টুসি বাসা থেকে বের হয়ে রিকসায় উঠলো । আমিও সাইকেল নিয়ে ফলো করে ওর স্কুল পর্যন্ত গেলাম । ও স্কুলে ঢুকে গেলে আমি আবার বাসায় চলে আসলাম । এভাবে মাঝে মাঝেই ফলো করতাম । একদিন ফলো করছি এমন সময় দেখলাম , টুসি বারবার রিকসার পেছন দিকে তাকিয়ে আমাকে দেখছে । বুঝতে পারলাম ফলো করার বেপারটা ও ধরে ফেলেছে । তাই , ওই দিনের পর থেকে ভয়ে আর ফলো করি নাই । কিন্তু আমি যে টুসির প্রতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পরেছি সেটা আস্তে আস্তে অনুভব করলাম । মনে মনে চিন্তা করছিলাম , কিছু একটা অবশ্যই করতে হবে । আল্লাহের রহমতে একটা রাস্তা পেয়েও গেলাম ।

আমার এক মেয়ে ফ্রেন্ড টুসিদের বাসার নিচের তলার ফ্ল্যাট এ থাকতো । সুযোগ বুঝে আমার ফ্রেন্ডকে একদিন সব খুলে বললাম । ওর সাহায্যেই আমি পরে টুসির মোবাইল নাম্বারটা পেয়ে গেলাম । শুরু হল মেসেজ পাঠানো । টুসিকে মাঝে মাঝেই মেসেজ পাঠাতাম । একদিন সাহস করে কল করে বসলাম । ও ফোন রিসিভ করার পর ভদ্র ভাষায় কিছু গালি শুনতে হল । তবুও নাছোড়বান্দার মত লেগেই রইলাম । মাঝে মাঝেই কল করতাম । কিন্তু ও রিসিভ করতো না । তারপর কলেজ এ পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় ব্যস্ততায় টুসির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম । ওকে পাবার আশাও প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলাম । পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর হঠাৎ একদিন টুসির নাম্বার থেকে আমার মোবাইল এ একটা কল আসে ।

আমিতো আকাশ থেকে পড়লাম । ভয়ে ভয়ে কলটা রিসিভ করলাম । রিসিভ করার পর টুসি যে কথাগুলো বলেছিল সে কথাগুলো হচ্ছে :
আপনি কে সে সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি । তিথি আপু (আমার সেই মেয়ে ফ্রেন্ড ,যে টুসিদের বাসার নিচের ফ্ল্যাট এ থাকে) আমাকে সব বলেছে ।
কাউকে ভালো লাগলে সেটা বলতে হয় । কাপুরুষের মত ফোন দিয়ে কাউকে বিরক্ত করে ভালবাসা আদায় করা যায় না । আর কাউকে ভালবাসতে হলে তাকে বুঝতে হয় , ভালো লাগতে হয় , যাচাই করতে হয় । তারপর তো ভালবাসা । হুট করে ভালবাসার কথা বললেই ভালবাসা যায় না । ‘
এই কথাগুলো বলে ও লাইন কেটে দেয় ।

এভাবেই আমাদের রঙিন স্বপ্ন বোনা শুরু হয়ে ছিল । ওই দিনের ফোন কলের পর থেকে আমি সব সময় টুসির পাশে থাকার চেষ্টা করেছি । মাঝে মাঝেই ওর স্কুল এ যাওয়ার সময় সাইকেল দিয়ে রিকসার সাথে সাথে ওর স্কুল পর্যন্ত গিয়েছি । বিকালেও প্রায়ই ওর প্রাইভেট এ যাওয়ার সময় সাথে সাথে গিয়েছি । ও শুধু পিছনে ফিরে মুচকি হাসত । এই মুচকি হাসিটাই আমার কাছে চাঁদের আলো মনে হতো ।
এভাবে চলার দুই মাস পর টুসিকে সরাসরি প্রপোজ করলাম । ও কিছু না বলে শুধু একটু হেসেছিল । ২ দিন পর ও যখন আমার প্রস্তাবে হ্যাঁ বলল তখন আমি যে কি খুশি হয়েছিলাম সেটা বলে বোঝানো যাবে না ।
আমাদের দিনগুলো স্বপ্নের মত এগিয়ে যেতে লাগলো । টুসির ভালবাসায় নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হতো ।
আমার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে মাঝে মাঝেই টুসি জিজ্ঞেস করতো , আমাকে ছেড়ে কখনো যাবে নাতো ?’
আমি ওর হাতটা আরও শক্ত করে ধরে বলতাম ,আমার এই লক্ষ্মী পাগলীটাকে ছেড়ে আমি কখনোই যাবোনা ।
এইভাবে স্বপ্নের ঘোরে অনেকগুলো দিন কেটে গেলো । টুসি এস .এস .সি তে জি .পি . এ - ৫ পেয়ে ভিকারুন্নিসা কলেজ এ ভর্তি হল । ও ঢাকা চলে যাওয়ার আগের দিন আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কেঁদেছিল । ও ঢাকায় ওর খালার বাসায় থাকতো । কলেজ বন্ধ হলে ও যখন ময়মনসিংহ আসতো তখনি শুধু আমাদের দেখা হতো । আর ফোন এবং ফেসবুক এ তো সব সময় যোগাযোগ থাকতোই ।


আমিও ব্যস্ত হয়ে পড়লাম এইচ .এস . সি পরীক্ষা নিয়ে । কেটে যেতে লাগলো দিনগুলো ..........


এইচ.এস.সি পরীক্ষা হয়ে গেল । জি .পি . এ – ৫ পেয়ে ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হলাম । তারপর শুরু হয়ে গেল ভর্তি যুদ্ধ । চান্স পেলাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে । নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালি দিন আর টুসির ভালবাসা নিয়ে মুহূর্তগুলো ভালই কাটছিল । কিন্তু আমাদের সুখটা আর বেশি দিন স্থায়ী হল না । আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে টুসির ফ্যামিলিতে জানাজানি হয়ে গেল । ফ্যামিলির চাপে এক সময় টুসি আমার সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিল । ভেবেছিলাম সব ঠিক হয়ে যাবে । কিন্তু , কিছুই ঠিক হল না । জীবনটা কালো অন্ধকারে ঢেকে গেলো হঠাৎ করেই । দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছিলো । মোবাইলে কল আসলে মনে হতো এই বুঝি টুসি ফোন করলো । কিন্তু , সেই আশা আশাতেই থেকে যেতো । শুধু ভাবতাম , ফ্যামিলির চাপে ও আমাকে এত সহজেই ভুলে গেলো ।


প্রায় দেড় মাস পর যখন সত্যি ঘটনাটা জানতে পারলাম তখন আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো ।
আসলে , টুসি আরেকটি ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল । তাই , ফ্যামিলির চাপের অজুহাত দেখিয়ে ও আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলো । হিমি নামে টুসির এক বান্ধবীর কাছ থেকে যেদিন কথা গুলো শুনেছিলাম সেদিন কিছুতেই নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না । মনে হচ্ছিলো এটা একটা স্বপ্ন , আর স্বপ্নটা বুঝি এখনি ভেঙে যাবে । যেই মানুষটাকে এত বেশি বিশ্বাস করতাম , এত বেশি ভালবাসতাম সেই মানুষটা আমাকে আজ এভাবে কষ্ট দিলো ।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সেদিনই টুসিকে ফোন দিয়েছিলাম । ভেবেছিলাম সবই মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে । কিন্তু , সব কিছু ভুল প্রমাণিত করে টুসি যখন সত্যি ঘটনাটি স্বীকার করলো তখন আমি কিছুক্ষনের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম । ইচ্ছা হচ্ছিলো দৌড়ে দূরে কোথাও পালিয়ে যাই ।
‘ কি দোষ ছিল আমার ? কি ভুল করেছিলাম আমি ? আমিতো শুধু ভালবেসেছিলাম । ‘
‘ হে আল্লাহ , আমার ভালোবাসাটাই কি দোষ ছিল । এটাই কি আমার ভুল ছিল । ‘
আসলে , এরকম দুঃখ পাওয়াটাই মনে হয় ভালোবাসা ।
কথাগুলো চিন্তা করতে করতে কখন যে অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে বুঝতেই পারলাম না । ঘর ভাঙল কালামের ডাকে ।
-শাফিন ভাই , আপনের চা তো অনেক আগেই ঠাণ্ডা হইয়া গেছে । আরেক কাপ চা বানায়া দেই ?
-না থাক । আজকে আর লাগবে না । আরেকদিন এসে খাবো ।
চায়ের কাপটা রেখে টাকা দিয়ে যখন চলে আসছিলাম , তখন আবার পিছন থেকে কালাম ডাক দিলো ।
-শাফিন ভাই , একটু শুইনা যান ।
যাওয়ার পর কালাম আমাকে ওর দোকানের পিছনে একটা গোলাপ গাছ দেখাল । গাছটাতে একটা গোলাপ ফুটে আছে । তখনি আমার গাছটার কথা মনে পড়লো । আমিতো একবারে ভুলেই গিয়েছিলাম । গত বছর , বৃক্ষ মেলা থেকে এই গোলাপ গাছটা কিনে টুসি এখানে এনে রোপণ করেছিলো । বলেছিল , আমাদের ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ গাছটা এখানে থাকবে । গাছটা ঠিকই রয়ে গেছে , কিন্তু আমাদের ভালোবাসাটা হারিয়ে গেছে ।
-শাফিন ভাই , আরেকদিন আসার সময় আফারে সাথে কইরা নিয়া আইসেন । আফা গাছে ফুল দেখলে অনেক খুশি হইব ।


সে কি আর কখনো আসবে এই দোকানে চা খেতে ? হয়তো আসবে অন্য কারো হাত ধরে ......... কথাগুলো চিন্তা করতে করতে হেঁটে যাচ্ছি পার্কের সেই চিরচেনা পথটি ধরে...............


লেখক-(এন. এস . শাফিন)

মঙ্গলবার, ৬ মার্চ, ২০১২

।। নীতি গল্প ।। (Niti Golpo)


।। নীতি গল্প ।। (Niti Golpo)
1.
একটি মুরগিকে পাওয়ার জন্য দুটো মোরগ লড়াই করছিল.................. বিজয়ী মোরগটি উচু দেয়ালে লাফ দিয়ে উঠে বিজয়ের আনন্দে চিত্কার করতে থাকল
***kukkuru kuk***
তারপর একটা ঈগল উড়ে এসে বিজয়ী মোরগটাকে তুলে নিয়ে গেল তখন পরাজিত মোরগটি এক কোনে নিজেকে লুকিয়ে ফেলল
পরে পরাজিত মোরগটিকে লুকনো জায়গা থেকে বের হয়ে মুরগির সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলল
.
.
নীতি কথাঃ অহংকার ও দুর্বিনীতি আচরন সহজেই শত্রুর দৃষ্টি আকর্ষণ করে
2.
>অতি চালাকের গলায় দড়ি<<

একদা একটি গাধা লবনের ভারী বোঝা বয়ে নিয়ে যাবার সময় নদী পার হতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পানিতে বসে পড়েছিল পানির সংস্পর্শে এসে লবন গুলে একেবারে জল হয়ে গেল উঠে দাঁড়িয়ে গাধা দেখে বোঝা একদম হালকা হয়ে গেছে সে তো মহাখুশী ভাবল বিরাট এক আবিষ্কার করে ফেলেছে সে নদী পার হতে গিয়ে পানিতে বসে পড়লেই যে বোঝা হালকা হয়ে যায় এ কথা তার আগা জানা ছিল না কিছুদিন পরের
ঘটনা সেই গাধাটির পিঠেই তুলার বোঝা ক্লান্ত গাধা নদী দেখেই থুশি হয়ে উঠল চালাকি করে নদী পার হতে গিয়ে সে হোঁচট খাওয়ার ভান
করে পানিতে বসে পড়ল কিন্তু একি ? উঠে দাঁড়াতে পারছে না কেন সে ? শুকনো বোঝা তো এমন ভারী ছিল না ? ক্রমে মাথাটিও আর উঁচু
করে রাখতে না পেরে ডুবে মরে গেল গাধা সে কি জানত লবনের বোঝা পানিতে ভিজে হালকা হয়ে যায় অথচ তুলার বোঝা ভিজে হয়ে যায়
আরো ভারী ?

নীতিকথা : মাঝে মাঝে বুদ্ধির অহংকারে চালাকি করতে গিয়ে ভাগ্য এমন বিড়ম্বনা ঘটায় যা মানুষ স্বপ্নেও
ভাবতে পারে না
3.
••• ভুল করে চাওয়া •••

একটি রাখাল তার পালের একটি বাছুর খুঁজে পাচ্ছিল না খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে সে ঈশ্বরের কাছে প্রার্খনা জানাল ,"ঈশ্বর ! চোর দেখিয়ে দিলে তোমার উদ্দেশে ছাগল বলি দেব ।" প্রার্থনা তার মন্ঞ্জুর হল হয়তো কারন কিছুক্ষণ পরেই সে বনের ভেতর গিয়ে দেখতে পেল তার বাছুরটি প্রায় থেয়ে শেষ করেছে এক বিরাট সিংহ ভয়ে রাখালের আত্নারাম খাঁচাছাড়া আকাশের দিকে দু হাত তুলে সে বলল , "ঈশ্বর রক্ষা কর চোর দেখিয়ে দিলে ছাগল বলি দেব বলেছিলাম ষাঁড় বলি দেব ঈশ্বর , এ যাত্রায়যদি সিংহের খপ্পর থেকে আমাকে তুমি রক্ষা কর ।"

নীতিকথা : মানুষ অনেক সময় না বুঝে এমন জিনিস চায় , যা পেতে না পেতে তার থেকে মুক্তি পাবার জন্য ব্যতিব্যস্ত
হয় পড়ে
4.
"দেহ অনাবৃত রাখা যদি আধুনিকতার
বিষয় হয়, তবে পশু-পাখি পৃথিবীর
সবচেয়ে আধুনিক প্রাণী।"
-
ডঃ জাকির নায়েক
5.
বাঘ এবং হরিনের দৌড় এ অনেক বার হরিন জেতে
কারন বাঘ দৌড়ায় খাবারের জন্য কিন্তু  হরিন ছোটে জীবনের টানে!!
মরালঃপ্রয়োজনের চেয়ে উদ্দেশ্যটা বেশি দরকারি
6.
>>>>>গাধা ও শিয়াল<<<<<
একদিন একটি গাধা একটি কুয়ার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল এমন সময় সে কুয়ার ভেতর একটি শব্দ শুনতে পেল সে কুয়ার ভেতর তাকাল এবং দেখল একটি শিয়াল কুয়ার ভেতরে পড়ে গেছে শিয়াল তাকে বলল," আমাকে বাঁচাও আমি কুয়ার ভেতর পড়ে গেছি ।" তখন গাধা বলল," আমি তোমাকে কি করে উপরে তুলে আনব ?" তখন শিয়াল বলল "তুমিও নিচে নামো পরে আমি তোমার ওপর পাড়া দিয়ে উপরে উঠি ।" তখন গাধা কুয়ায় নামল এবং শিয়াল গাধার ঘাড়ে পারা দিয়ে উপরে উঠে এল তারপর গাধা বলল,"আমায় এখন উপরে তোলো ।"

তখন শিয়াল বলল," তোমাকে বাঁচাতে গেলে আমি আবার বিপদে পড়ব ।" এই বলে শিয়াল গাধাকে রেখে চলে গেল গাধা তখন বিপদে পড়ল

নীতিকথা :-পরিস্থিতি ভেবে কাউকে সাহায্য করা উচিত
7.
(***অতি আশা দুরাশা***)

ব্যাঙ দেখল ষাঁড় ভীষণ বড় তার শখ হল তার চেয়েও বড় হবার সে বেলুনের মতো নিজেকে ফোলাতে শুরু করল কুঁচকানো বিশ্রী চামড়া তার মসৃণ হয়ে উঠল একটু থেমে সে ছেলেদের জিজ্ঞেস করল ,"দেখ তো এখন ষাঁড় বড় , না আমি ?" ছেলেরা বলল,"ষাঁড় বড় ।"

ব্যাঙ আরো ফোলাতে লাগল নিজেকে এবং বলল ,"এবার ?"

ছেলেরা বলল ," এখনো ষাঁড় তোমার চেয়ে বড় ।"

রেগে গিয়ে ব্যাঙ নিজেকে আরো ফোলাতে গিয়ে বেলুনের মতো ফেটে মরেই গেল

নীতিকথা : দুর্বল সবলের চাল চালতে গেলে তার নিজেরই সর্বনাশ হয়
8.
\\\\\পিঁপড়ে ও ঘুঘুপাখি/////

তৃষ্ঞার্ত এক পিঁপড়ে নদীর জলে মুখ দিতেই তাকে স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে গেল একটি ঘুঘুপাখি তা দেখতে পেয়ে পিঁপড়েটির সামনে একটি গাছের পাতা ফেলে দিল পিঁপড়েটি পাতায় চড়ে বসে প্রাণ বাঁচাল
কিছুদিন পরে পিঁপড়েটি দেখতে পেল একজন শিকারি সেই ঘুঘুটির দিকে তীর ছুঁড়তে উদ্যত কুট করে সে কামড় বসিয়ে দিল শিকারির পায়ে উহ্ করে উঠতেই হাতের তীর গেল পড়ে আর শব্দ পেয়ে ঘুঘুটি ফুড়ুত্‍ করে উড়ে গেল

নীতিকথা : সবসময় উপকারের বদলে প্রত্যুপকার করতে হয়
9.
¤নিরাপত্তার শ্রেষ্ঠ উপায়¤

একটি সাপ বারবার অনেক লোকের পায়ের তলায় পিষ্ট হবার পর অতিষ্ঠ হয়ে ঈশ্বরের কাছে গিয়ে নালিশ জানাল ঈশ্বর তখন বললেন ," প্রথমবার যার পায়ের তলায় পড়েছিলে তারই পায়ে ছোবল বসিয়ে দিলে আর দ্বিতীয় ব্যক্তির পায়ের তলায় তোমাকে পড়তে হত না !"

নীতিকথা : অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথমবারই যদি রুখে দাঁড়ানো যায় , তা হলে পরবর্তীতে তোমার প্রতি অন্যায় করতে কেউ সাহস পাবে না

সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১২

বন্ধু

একদিন এক কাঁকড়া সাগরের তীর ধরে হেঁটে যাচ্ছিল

সাগরের ঢেউ এসে বার বার তার পায়ের ছাপ মুছে দিয়ে যাচ্ছিলো

সেটা দেখে কাঁকড়া বলল==
"
তুমি আমার বন্ধু হয়ে ও কেনো বার বার
আমার এত সুন্দর পায়ের ছাপগুলো মুছে দিচ্ছো ?" :- (

ঢেউ উত্তর দিল==
"
এক জেলে তোমাকে ধরার জন্য তোমার পায়ের ছাপ অনুসরন করছে

তাই আমি তা মুছে দিচ্ছে
যাতে তুমি ভাল থাকো,সুরক্ষিত থাকো ।" :- )

সত্যিকার বন্ধু উপকার করে
কিন্তু , বিনিময়ে চায় না কোন প্রতিদান

মাঝরাতের ফোন কল

আঁতেল সিরিজের ৩য় গল্পঃ


by Oritro Ahmed
ফোনের শব্দে আরিফের ঘুম ভেঙ্গে গেলো।কে গো এতো রাতে? ডিস্প্লেতে দেখে অপরিচিত নম্বর। মেজাজ খারাপ করে আরিফ ফোন ধরলো।ওপাশ থেকে আওয়াজ ভেসে এলো
"হ্যালো আরিফ?"
আরিফ নারী কন্ঠ শুনে একটু অবাক হলো। এতো রাতে অপরিচিত নম্বর থেকে কোন মেয়ে ফোন দিলো ওকে?
"জ্বী আমি আরিফ বলছিলাম,আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না।"
ওপাশ থেকে মেয়েটা হেসে বলল
"ব্রেনের ওপর চাপ দিয়ে লাভ নাই,আপনি আসলেও আমাকে চেনেন না"
এ কথা শুনে আরিফ উঠে বসলো বিছানা থেকে।সে মেয়েটাকে চেনে না কিন্তু মেয়েটা তাকে চেনে।আরিফ এবার নিজে থেকেই একটু আগ্রহী হলো।
কে এই মেয়ে এবং কেনই সে আরিফ কে মাঝ রাতে ফোন দিয়েছে?
"আপনাকে আমি কিভাবে সাহায্য করতে পারি?" আরিফের প্রশ্ন ।
"আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই" অপরিচিতার উত্তর।
"আমি আপনাকে চিনি না,জানি না।আমি কেন আপনার সাথে কথা বলবো?"আরিফের জবাব।
ওপাশ থেকে রহস্যময়ী খিল খিল করে হেসে উঠলো।হাসি শুনে আরিফ কেমন যেন আনমনা হয়ে গেলো।স্মৃতির পাতা থেকে
কিছু একটা ভেসে উঠতে গিয়েও উঠলো না।এ হাসি আরিফের অপরিচিত না,এ হাসির মালিক এর মুখটা আরিফের
স্মৃতির মানস্পটে ভেসে উঠলো।নিজের ভাবাবেগ কে চাপা দিয়ে আরিফ বলল?
"হাসছেন কেন?"
ওপাশ থেকে আবার হাসি শোনা গেলো।
"ওমা হাসতে মানা আছে নাকি?আগে বলবেন না?আচ্ছে আর হাসবো না।"
তবে তার হাসি থামানোর কোন লক্ষন দেখা গেলো না।সে ক্রমাগত হেসে চলেছে।
আরিফের খুব খারাপ লাগতে লাগলো।আবার সেই কষ্টের স্মৃতি মনে পরে যাচ্ছে।সে তাড়াতাড়ি বলল
"অনেক রাত এখন,আমি ঘুমতে যাবো।ভালো থাকবেন"।
ওপাশ থেকে হাসি থেমে গেলো।আরিফ কেবল ফোন টা কান থেকে নামাতে যাবে এমন সময় ওপাশ থেকে খুব ঠাণ্ডা গলায় খুব
আদর করে কেউ বলল "আরিফ তুমি কি আমাকে ভুলে গেছো?"
আরিফের মনে হলো তার বুকে কেউ যেন একটা চাকু ঢুকিয়ে দিয়েছে।এই সেই ভয়েজ,সেই আদুরে করে আরিফ ডাকা
,এটা কিভাবে হতে পারে?হ্রিদিতা কিভাবে ফিরে আস্তে পারে?ও তো আমাকে ছেড়েও চলে গিয়েছিলো।বলেছিলো আর
কখনো ওর কাছে আসবে না,ওর সাথে কথা বলবে না।
আরিফ প্রায় এক মূহূর্ত দম আটকে রেখে বলল
"হৃদিতা?তুমি?"
আবার হাসি শোনা গেলো।
"যাক মশাই তাহলে আমাকে চিনতে পেরেছেন?কেমন আছো আরিফ?"
আরিফ খুব আস্তে করে বলল
"তোমার তো ভালো জানার কথা আমি কেমন আছি?ছেড়ে তো আমাকে তুমি গিয়েছিলে?"
হৃদিতা এবার শান্ত ভাবে বলল
"তুমি কখনো জানার চেষ্টা করোনি কেন আমি তোমাকে ছেড়ে গিয়েছিলাম?কেন চেষ্টা করোনি আরিফ?"

আরিফ কয়েকসেকেন্ড কথা বলতে পারলো না।তার পর বলল
"তুমি আমাকে বলেছিলে তুমি আর আমার কাছে আসবে না,আমার সাথে কথা বলবে না,আমাকে নিষেধ করেছিলে তোমাকে ফোন দিতে,তোমার সাথে দেখা
করতে?তাইনা? তাহলে দোষ কি আমার?"

দ্বীর্ঘশ্বাস ভেসে এলো ওপাশ থেকে।
"হ্যাঁ আমি তোমাকে মানা করেছিলাম,ভেবেছিলাম সেটাই মনে হয় ভালো ছিলো"

"কেন হৃদিতা?আমি তো অনেক ভেবেও তোমার এই হটাত চলে যাওয়ার কারন ভেবে পাইনি।না আমাদের ঝগড়া হয়েছিলো,না আমাদের ফ্যামেলি বিয়ে ঠিক করেছিলো। ?"

"আরিফ তোমার মনে আছে,তুমি কলেজ লাইফে আমাকে বলতে যে কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলো সামনে থেকে অদৃশ্য থাকে?মনে আছে তোমার? "

"কেন মনে থাকবে না?রহিমের ক্যান্টিন এ বসে তোমাকে বলেছিলাম এই কথা।"

"তোমার আমার ভালোবাসার ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে আরিফ,এমন কিছু বিষয় ছিলো যেটা আমি তুমি এক সাথে বসে দেখতে পারি নি,যখন দেখেছি তখন আমি তোমাকে এর মাঝে আনতে চাই নি"।

"কি সেই বিষয় যার কাছে তোমার আমার ভালোবাসাও তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিলো? আমি মনে করতাম আর যাই হোক তুমি অন্তত আমাকে ছেড়ে যাবে না"

"জিজ্ঞেস করো না কেন আমি চলে গিয়েছিলাম,আমি উত্তর দিতে পারবো না।এখন বলো তুমি কেমন আছো?বিয়ে করেছো?"

আরিফ এক মূহুর্ত থেকে বলল
"তোমার কি মনে হয় আমি বিয়ে করেছি?"

আবার ওপাশ থেকে সেই ভূবন ভোলানো হাসি শোনা গেলো।
"আরিফ তোমার মনে আছে আমি একটা সময় আমি তোমাকে বলতাম তোমাকে আমার চেয়ে ভালো করে কেউ চেনে না?মনে আছে তোমার?"

"তোমার যদি মনে হয় তুমি আমাকে এতো ভালো করে জানো তাহলে তোমার এটাও জানা থাকার কথা আমি সহজে কিছু ভুলি না"

"হুম,জনাব সহজে কিছু ভোলেন না।আমার ধারণা তুমি এখনো বিয়ে করনি ।অবশ্য তোমার বয়স খুব বেশী না,বিয়ে না করে আরো ২-৩ বছর অনায়েসে কাটাতে পারবে"

"তাই নাকি?"
"হুম,তুমি অনেক হ্যান্ডসাম ছিলে কলেজ লাইফে।তাইতো তোমার প্রেমে পরেছিলাম।নাহলে যার পেছনে গোটা কলেজের ছেলেরা ঘুরতো সে তোমার
প্রেমে কেমনে পরে?"

"তুমি কি নিজের প্রশংসা করছো নাকি আমার লেগ পুলিং করছো?"

আবার হাসি শোনা গেলো।
"কোনটাই করছি না,শুধু স্মৃতিচারণ করছি"।

"তুমি এখন কোথায় হৃদিতা?"

"আমি?তোমার খুব কাছে আছি।খুব কাছে।"
"ঠাট্টা রাখো,সিরিয়াসলি বলো কোথায় আছো?"
"আমি ঢাকাতে আছি আরিফ,গতকাল এসেছি"
"আমার ফোন নম্বর পেলে কি করে?মিনহাজ দিয়েছে?"

"হুম,মিনহাজ এর সাথে আমার ইউকে যাওয়ার পরো যোগাযোগ ছিলো"

"তুমি বিয়ে করেছো হৃদিতা?"

"তোমার কি মনে হয়?"

"আমার একটা সময় পর্যন্ত্ নিজের ওপর ভরসা ছিলো যে আমি তোমাকে সবচেয়ে ভালো জানি,যে দিন তুমি চলে গেলে সেদিন বুঝলাম আমি ভুল জানতাম,কোন আইডিয়া নাই তুমি বিবাহিত না অবিবাহিত"

"আমি এখনো বিয়ে করিনি আরিফ?"
"কেন?"
"কারো পথ চেয়ে আছি?"
একটা হালকা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আরিফ জিজ্ঞেস করলো  "কার?"
"তোমার,ইউ ঈডিয়েট"
বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠলো আরিফ "মানে?আমার অপেক্ষা করছো?ডোন্ট প্লে উইথ মি হৃদিতা।যদি আমার জন্যই অপেক্ষা করছো তাহলে ছেড়ে গিয়েছিলে কেন?"
"আরিফ আজ থেকে এক বছর আগে আমি যখন চলে গিয়েছিলাম তখন তোমাকে আমি একটা বই দিয়েছিলাম মনে আছে?"
"থাকবে না কেন?আমার বেডের পাসের টেবিলে আছে বইটা"
"ওটা বের করো।"
টেবিল হাতরে বইটা বের করলো আরিফ।বইটা হাতে নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল "বের করেছি,এবার?"
"বইটার ৩২০,৩২১,৩২২,৩২৩,৩২৫ নম্বর পেজ গুলো দেখো।"
তারাহুরো করে আরিফ বইটা খুলে পেজ গুলো দেখলো।খেয়াল করে দেখলো তিনটা পেজ এ প্রায় ৪০ টা শব্দ পেন্সিল দিয়ে হাল্কা করে মার্কা করা।
ফোনে কথা ভেসে এলো "আরিফ তোমার অনেক শখ ছিলো ডিসাইফার এবং এম্বিগ্রাম নিয়ে গবেষনা করার।তোমার কাছ থেকে শিখেই একটা জিনিস দিয়েছিলাম তোমাকে।দেখি ডিসাইফ করতে পারো কিনা"

আরিফ ফোন লাউডস্পিকারে দিলো।একটা নোটপ্যাড টেনে নিয়ে শব্দগুলো লিখতে লাগলো।ডার্কার মেথডে মিলাতে না পেরে এ্যাম্বিগ্রাম এর মেথড এ ট্রাই করলো।করতেই অর্থ বের হয়ে আসতে লাগলো।সব গুলো শব্দ মিলে বাক্যটা দাড়ায়

-আমি চলে যাচ্ছি,আমি চাইনা আমার সল্প সময়ের জীবন কে তোমার জীবনের সাথে যুক্ত করে তোমাকে কষ্ট দিতে।যদি ভালো হয়ে ফিরে আস্তে পারি নিজেই আমি তোমার কাছে আসবো।নাহলে হারিয়ে যাবো অনন্ত্য মহাকালে

আরিফ লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বলল
"এসবের মানে কি হৃদিতা?কি হয়েছিলো তোমার?"

"একটু আগে বলেছিলাম না জিজ্ঞেস করো না জবাব দেবো না?"

"হ্যাঁ বলেছিলে"

"আরিফ তুমি কি আমাকে এখনো ভালোবাসো?"

"কি মনে হয়?"

হাসির শব্দ শোনা গেলো।
"আমি জানি তুমি আমাকে এখনো ভালোবাসো।তুমি আমাকে কোন দিন তোমার মন থেকে বিদায় দিতে পারবে না আরিফ।কারণ আমাদের ভালো বাসা সত্য ছিলো"

"আর তুমি?"

"মাঝরাতে তোমাকে ফোন দিয়ে কথা বলছি।এক বছর আগে দেয়া একটা এ্যম্বিগ্রাম দেখিয়েছি।সেটা তুমি ডিসাইফ ও করেছো।তারপর ও জিজ্ঞেস করছো আমি তোমাকে ভালোবাসি কিনা?"

"আচ্ছা বুঝলাম তুমি আমাকে ভালোবাসো।কিন্তু হৃদিতা একটা কথা আছে মাঝখানে।এক বছর আগে এক বিকেলে তুমি টিএসসি তে আমাকে বলেছিলে তোমাকে ভুলে যেতে,তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে,যোগাযোগ না করতে।একটা বই দিয়ে তুমি আমার লাইফ থেকে চলে গিয়েছিলে।আজ এক বছর পর মাঝরাতে আমাকে ফোন দিয়ে বলছো তুমি আমাকে ভালোবাসো,আমার হতে চাও,একটা অ্যাম্বিগ্রাম ও দেখলে এক বছর আগের।তুমি আমার জীবনে ফিরে আসতে চাও।২৯ মিনিটের ফোন আলাপে এতো কিছু হজম করতে একটু কষ্ট হছে আমার।যে কারো হবে।"

"খুবই স্বাভাবিক আরিফ।তোমার বিশ্বাস না হওয়ার কথা।কি করলে বিশ্বাস করবে তুমি?"

"কাল সকালে আমার অফিস আছে।আমি ১২টায় একটা মিনি ব্রেক এ বের হবো।তুমি টিএসসির সেই খানে আসবে যেখানে তুমি আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে। গায়ে থাকবে একটা কালো শাড়ি,আমার প্রিয় রং এর। আসবে?"

"আমি আসবো আরিফ,আমি আসবো"

"তাহলে সেখানেই তোমার সাথে দেখা হবে আমার,সেই পর্যন্ত ভালো থেকো।"

"তুমিও"

ফোন রেখে আকাশ পাতাল ভাবতে লাগলো আরিফ।এ কি হচ্ছে?এব বছর পর?হৃদিতা?না কি এতোক্ষন যে হলো সব আমার হ্যালুসিনেশন? নোটপ্যাডের দিকে তাকালো।সেখানে লেখাগুলো এখনো দেখা যাচ্ছে।আরিফ কি মনে করে ফোনে এর ইনকামিং নম্বর টা চেক করে সেভ করে রাখলো।তারপর বই এর সব পেজ এবং নোটপ্যাডের সব লেখার ছবি তুলে রাখলো ফোনে।হ্যালুসিনেশন হলে এসব ছবি সকালে পাওয়া যাবে না।

বেশ সকালে একটা ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে ঘুম থেকে উঠলো আরিফ।মনটা আজ অনেক ভালো।সত্যই যদি হৃদিতা ফিরে আসে তাহলে আরিফের জীবনের কাছে আর তেমন কোন চাহিদা নেই।

রেডি হয়ে অফিসে গেলো আরিফ।কাজ এ ঠিক মতো মন বসাতে পারছে না।সময় যতো আগাচ্ছে আরিফের মন তত অশান্ত হচ্ছে।সকালের সেই ফুরফুরে মেজাজ আর নেই।এর মধ্যে একটা গোটা পেজ প্রোগ্রামিং করতে গিইয়ে ৭০ জায়গায় ভুল করেছে।পাশের কিউবিকল এ বসা সবুজ ১৫ বার তাকে বলে দিয়েছে যে কোডিং এ ভুল আছে।আরিফ কিছুতেই মন বসাতে পারছে না।১১ টা বাজতেই আরিফ সবুজ কে ডেকে কাজ বুঝিয়েদিয়ে দৌড় দিলো,নিচে এসে নিজের বাইকে চেপে রওনা দিলো টি এস সির উদ্দেশ্যে।পথে হৃদিতার জন্য কিছু গিফট কিনলো।নিজের ব্যবহার এ আরিফ নিজেই অবাক।তার মন বলেছে হৃদিতা ফিরে আসছে।বুদ্ধি বলছে অফ সাইডের বল দেখে শুনে খেলতে হয় বন্ধু।আরিফ নিজের ভেতরে কনফিউশন কে চাপা দিয়ে সোহরাওয়ার্দ্দী উদ্যান এর গেটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো।
একটু পর আরিফ একটা সিগারেট ধরালো।১২ টা বাজতে এখনো ১৫ মিনিট বাকি।হৃদিতা সিগারেট খাওয়া পছন্দ করে না।তাই ওর সামনে কখনো সিগারেট ধরাতো না আরিফ।কিন্তু ও কেমন করে যেন বুঝ যেতো যে আরিফ সিগারেট খেয়েছে।বকা দিতো অনেক।আজ সেসব কথা মনে পরতেই আপন মনে হেসে উঠলো আরিফ।যাই হোক হৃদিতার আসতে এখনো বেশ কিছু সময় আছে।এর মধ্যে দুইটা সিগারেট অন্তত খাওয়া যাবে।প্রথমটা ধরিয়ে কেবল চারটা টান দিয়েছে আরিফ,পেছন থেকে আওয়াজ ভেসে এলো?
"তুমি এখনো সিগারেট খাওয়া ছাড়োনি?" আরিফ হেসে ফেলল।পেছন না ফিরেই আগে সিগারেট তা ফেলে পা দিয়ে মাড়িয়ে দিলো।তারপর পেছনে ফিরলো।দাড়িয়ে আছে হৃদিতা। আরিফের হৃদিতা.