শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১২

অবাক লাগে

অবাক লাগে

আসিফ মামুন

অসৎ কাজের ধুম পড়েছে ধুম
দিন-দুপুরে লোক হয়ে যায় গুম।

মন্ত্রী খোঁজে কালো টাকার সুখ
চামচা-পিএস বাঁধহারা উল্লুক।

আলুর দোষে ফাঁসছে অনেকজন
জীবন বিনাশ নয়তো মুক্তিপণ।

দেশ হারালো শান্তি-ন্যায়ের কাল
অবাক লাগে ভাবতে ডিজিটাল।
২৪/০৪/১২ খ্রি.

বুধবার, ১১ এপ্রিল, ২০১২

কান্না

কান্না। মানুষের একান্ত সময়ের একান্ত অনুভূতি।
একে এড়িয়ে বাঁচা যায় না। আমাদের কাঁদতেই হয়।
এটাই সত্য। তবু অন্যের কান্না দেখে খারাপ লাগে।
যদিও জানি-কান্নাও এক ধরনের ঔষধি।
কান্নার সময়ে শান্তি লাভ হয়, কান্নার পরে প্রশান্তি আসে।
একেক জন একেক কারণে কাঁদে। তবে সেই সময়ের অসহায় অনুভূতিটা মনে হয় একই।

মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল, ২০১২

Golpo

একাটা ছেলে আর একটা মেয়ে একে অপরকে খুব ভালোবাসতো
দুর্ভাগ্যবশত মেয়েটি একটি দুর্ঘটনাই মারা যায়
ছেলেটি অনেক কষ্ট পায়
সে কোনোভাবেই তার অশ্রু থামাতে পারে না
ছেলেটি দিনরাত মেয়েটিকে মনে করে আর কাঁদে
অনেকেই সহানুভূতি দেখায়ছেলেটিকে বোঝানোর চেষ্টা করে
কিন্তু কোন যুক্তি এ তার কান্না থামাতে পারে না
এক রাতে সে একটা স্বপ্নে দেখে
সে দেখে তার প্রিয়তমা অনেকগুলো মেয়ের সাথে স্বর্গের বাগানে হাঁটছে
হঠাৎ সে লক্ষ্য করলো, সব মেয়ের হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি রয়েছে, শুধু তার প্রিয়তমার হাতের মোমবাতিটি জ্বলছে না

সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো তোমার হাতের মোমটি নেভানো কেন?
মেয়েটি বলল, আমি যতবার আমার মোমবাতিটি জ্বালাই তোমার অশ্রু এর উপর পড়ে মোমটি নিভিয়ে দেয়
দয়া করে তুমি আর কেদনাতুমি কাঁদলে আমারও যে কষ্ট হয়...............

রবিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১২

Jocks

একটি ছেলে ও একটি মেয়ে একসাথে বসে আছে.
হঠাৎ ছেলেটি একটা গোলাপ ফুল বের করল।
মেয়েটি বললঃ হুমম !! কার জন্যে এটা ??
ছেলেটি হাসল... আর বললঃ এটা আমার রাজকন্যার জন্যে কিন্তু... আমি তাকে এটা দিতে পারতেছি না ... :(
মেয়েঃ চেষ্টা করো ! অন্তত সে তো খুশি হবে ...
ছেলেটি উঠে দাঁড়াল... ও হেঁটে চলে গেল...
মেয়েঃ ওই !! তোমার গোলাপ... রেখে গেলা তো !..
ছেলেঃ আমি তোমাকে বলেছিলাম... এটা আমার রাজকন্যার জন্য... !! ♥ ♥ ... :) :) :)

সোমবার, ২ এপ্রিল, ২০১২

টিউব–লাইট, তোকে অনেক ভালবাসি

ভালবাসার ডাকপিয়ন (the cafe of love)

লেখক- (আধারের যাত্রী)

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনের ক্লাসে যেদিন তুলিকে দেখি সেদিনই আমার ওকে ভালো লেগে যায় । তারপর থেকে সেই ভালো লাগা দিন দিন যেন বেড়েই যাচ্ছিলো । তুলির বয়ফ্রেন্ড আছে জানা সত্ত্বেও আমি ওর প্রতি আমার অনুভূতিটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না । তুলি ওর হাত দিয়ে যদি কখনো কোন জিনিস আমাকে দিতো , তাহলে কেন জানি সেটা ফেলে দিতে ইচ্ছা হতো না ।
-একদিন সব বন্ধুদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফুচকার দোকানে আড্ডার এক পর্যায়ে তুলি আমার দিকে দুষ্টামি করে একটা মোবাইলের বিজ্ঞাপনের কাগজ ছুড়ে দেয় । সেই কাগজটা আমি এখনো যত্ন করে আমার মানিব্যাগে রেখে দিয়েছি ।
-আমার পড়ার টেবিলে একটা মোজোর কোল্ড ড্রিংকসের বোতল সাজানো আছে । এই বোতলটা তুলির হাতে কেনা । তাই , বোতলটা ফেলে দিতে ইচ্ছা করেনা ।
-তুলি একবার আমার হাতে দুষ্টামি করে দুইটা ফুলের পাপড়ি দিয়েছিলো । সেই পাপড়ি দুটো এখনো মানিব্যাগে রেখে দিয়েছি ।
-আমি মোবাইলের অন্য সব মেসেজ ডিলিট করতে পারি , কিন্তু তুলির যে কয়টা মেসেজ আছে সেই মেসেজগুলো কেন জানি ডিলিট করতে পারিনা .........

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কোন একটা কারনে তুলির তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ব্রেক-আপ হয়ে যায় ।
তারপর থেকে আমার আরও বেশি ইচ্ছা করে এই একাকি মেয়েটার পাশে থেকে মেয়েটার একাকীত্ব দূর করে দিতে ।
তুলিকে নিয়ে আমি কয়েকদিন আগে একটা ছোট গল্প লিখি । গল্পটা লিখে ডিপার্টমেন্টের সবাইকে গল্পটা পড়তে দেই । সবাই গল্পটা পড়ে বুঝতে পারে যে আমি তুলির প্রেমে পরেছি । কিন্তু যার জন্য এত কষ্ট করে গল্পটা লিখেছিলাম সেই তুলি গল্পটা পড়ে কিছুই বুঝতে পারলো না । তুলির একটা সমস্যা হল ও সব কিছুই একটু দেরিতে বুঝতে পারে । টিউব-লাইট যেমন একটু দেরিতে জ্বলে ওঠে , তুলিও সেইরকমভাবে সব কিছুই একটু দেরিতে বুঝতে পারে ।

ক্লাসের সবাই আমাদেরকে নিয়ে হাসাহাসি করতো । হয়তো এই কারণেই তুলি কিছু একটা আঁচ করতে পেরেছিল ।
গত মাসের ২৬ তারিখে তুলি আমাকে গল্পটার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে ।
-আচ্ছা , তুই যে তোর গল্পটাতে একটা মেয়ের বর্ণনা দিলি সেই মেয়েটা কে ?
-বলা যাবে না ।
-না , তোকে আজ বলতেই হবে । মেয়েটা কি আমাদের ডিপার্টমেন্টের কেউ ?
-হতেও পারে আবার নাও হতে পারে ।
-ভণিতা করা বাদ দে । সরাসরি মেয়েটার কথা বল ......
-আচ্ছা , তুই কি সত্যিই কিছু বুঝতে পারিস নাই নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করছিস ?
-তুই তো জানিস , আমি টিউব–লাইটের মতো । সব কিছুই একটু দেরিতে বুঝি ।
-আসলেই কিছু বুঝিস নাই ?
-সত্যি আমি কিছুই বুঝি নাই । বলনা প্লিজ । মেয়েটা কে ?
তখন আমি মানিব্যাগ থেকে ফুলের পাপড়ি দুইটা তুলির হাতে দিয়ে বললাম :
-দেখতো এই পাপড়ি দুইটা চিনতে পারিস নাকি ?
-এই পাপড়ি আমি চিনবো কিভাবে ? তোর গল্পের মেয়েটা তোকে দিয়েছে , তাই না ?
-তুই আসলেই একটা টিউব–লাইট । এতক্ষন ধরে বুঝাচ্ছি কিছুই বুঝতে পারছিস না ।
-আচ্ছা, শুধু এততুকু বল যে , মেয়েটা কি আমাদের ডিপার্টমেন্টের কেউ ?
-হুম ।
কথাটা শোনার পর তুলি ডিপার্টমেন্টের সবগুলো মেয়ের নাম বলা শুরু করলো ।
-মেয়েটা কি মাইশা ?
-না ।
-তাহলে সেতু ?
-না ।
এইভাবে বলতে বলতে তুলি সবার নাম বলল , কিন্তু নিজের নাম বলল না ।
-সবার নামই তো বললাম । কেউই তো বাকি নেই । তাহলে ?
-গাধা , নিজের নাম বলছিস ?
কথাটা শোনার পর তুলি হতভম্বের মতো দাড়িয়ে গেলো । আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না ।
-এইবার বুঝতে পেরেছিস ?
-হুম । রিকশা ডাক দে ।
আমি রিকশা ডাক দিলাম । সারা রাস্তায় ও আর কোন কথা বলেনি । শুধু জিজ্ঞেস করেছিলো , আমি ওকে কতদিন ধরে পছন্দ করি ......
গতকাল তুলির মতামত জানতে পারলাম ।

আসলে ও আমাকে কখনোই ওইভাবে দেখেনি । সব সময় একটা ভালো বন্ধু হিসেবেই আমাকে ভেবে এসেছে । আর এই বন্ধুত্তের মাঝে অন্য কিছু চিন্তা করা ওর পক্ষে কখনোই সম্ভব না ।
কথাটা শোনার পর চোখ দিয়ে পানি এসে গিয়েছিলো । অনেক কষ্টে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেছি । ও আমাকে ভালবাসুক আর নাই বাসুক আমিতো ওকে ভালবাসি । সেটাই আমার জন্য অনেক । আর আমি যাতে আমার এই প্রিয় টিউব–লাইটটাকে আজীবন ভালবেসে যেতে পারি সেই চেষ্টাই করবো ।
I love you Tube-Light …….. আমি তোকে সত্যিই অনেক , অনেক , অনেক ভালবাসি

টিউব–লাইট, তোকে অনেক ভালবাসি

ভালবাসার ডাকপিয়ন (the cafe of love)

লেখক- (আধারের যাত্রী)

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনের ক্লাসে যেদিন তুলিকে দেখি সেদিনই আমার ওকে ভালো লেগে যায় । তারপর থেকে সেই ভালো লাগা দিন দিন যেন বেড়েই যাচ্ছিলো । তুলির বয়ফ্রেন্ড আছে জানা সত্ত্বেও আমি ওর প্রতি আমার অনুভূতিটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না । তুলি ওর হাত দিয়ে যদি কখনো কোন জিনিস আমাকে দিতো , তাহলে কেন জানি সেটা ফেলে দিতে ইচ্ছা হতো না ।
-একদিন সব বন্ধুদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফুচকার দোকানে আড্ডার এক পর্যায়ে তুলি আমার দিকে দুষ্টামি করে একটা মোবাইলের বিজ্ঞাপনের কাগজ ছুড়ে দেয় । সেই কাগজটা আমি এখনো যত্ন করে আমার মানিব্যাগে রেখে দিয়েছি ।
-আমার পড়ার টেবিলে একটা মোজোর কোল্ড ড্রিংকসের বোতল সাজানো আছে । এই বোতলটা তুলির হাতে কেনা । তাই , বোতলটা ফেলে দিতে ইচ্ছা করেনা ।
-তুলি একবার আমার হাতে দুষ্টামি করে দুইটা ফুলের পাপড়ি দিয়েছিলো । সেই পাপড়ি দুটো এখনো মানিব্যাগে রেখে দিয়েছি ।
-আমি মোবাইলের অন্য সব মেসেজ ডিলিট করতে পারি , কিন্তু তুলির যে কয়টা মেসেজ আছে সেই মেসেজগুলো কেন জানি ডিলিট করতে পারিনা .........

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কোন একটা কারনে তুলির তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ব্রেক-আপ হয়ে যায় ।
তারপর থেকে আমার আরও বেশি ইচ্ছা করে এই একাকি মেয়েটার পাশে থেকে মেয়েটার একাকীত্ব দূর করে দিতে ।
তুলিকে নিয়ে আমি কয়েকদিন আগে একটা ছোট গল্প লিখি । গল্পটা লিখে ডিপার্টমেন্টের সবাইকে গল্পটা পড়তে দেই । সবাই গল্পটা পড়ে বুঝতে পারে যে আমি তুলির প্রেমে পরেছি । কিন্তু যার জন্য এত কষ্ট করে গল্পটা লিখেছিলাম সেই তুলি গল্পটা পড়ে কিছুই বুঝতে পারলো না । তুলির একটা সমস্যা হল ও সব কিছুই একটু দেরিতে বুঝতে পারে । টিউব-লাইট যেমন একটু দেরিতে জ্বলে ওঠে , তুলিও সেইরকমভাবে সব কিছুই একটু দেরিতে বুঝতে পারে ।

ক্লাসের সবাই আমাদেরকে নিয়ে হাসাহাসি করতো । হয়তো এই কারণেই তুলি কিছু একটা আঁচ করতে পেরেছিল ।
গত মাসের ২৬ তারিখে তুলি আমাকে গল্পটার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে ।
-আচ্ছা , তুই যে তোর গল্পটাতে একটা মেয়ের বর্ণনা দিলি সেই মেয়েটা কে ?
-বলা যাবে না ।
-না , তোকে আজ বলতেই হবে । মেয়েটা কি আমাদের ডিপার্টমেন্টের কেউ ?
-হতেও পারে আবার নাও হতে পারে ।
-ভণিতা করা বাদ দে । সরাসরি মেয়েটার কথা বল ......
-আচ্ছা , তুই কি সত্যিই কিছু বুঝতে পারিস নাই নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করছিস ?
-তুই তো জানিস , আমি টিউব–লাইটের মতো । সব কিছুই একটু দেরিতে বুঝি ।
-আসলেই কিছু বুঝিস নাই ?
-সত্যি আমি কিছুই বুঝি নাই । বলনা প্লিজ । মেয়েটা কে ?
তখন আমি মানিব্যাগ থেকে ফুলের পাপড়ি দুইটা তুলির হাতে দিয়ে বললাম :
-দেখতো এই পাপড়ি দুইটা চিনতে পারিস নাকি ?
-এই পাপড়ি আমি চিনবো কিভাবে ? তোর গল্পের মেয়েটা তোকে দিয়েছে , তাই না ?
-তুই আসলেই একটা টিউব–লাইট । এতক্ষন ধরে বুঝাচ্ছি কিছুই বুঝতে পারছিস না ।
-আচ্ছা, শুধু এততুকু বল যে , মেয়েটা কি আমাদের ডিপার্টমেন্টের কেউ ?
-হুম ।
কথাটা শোনার পর তুলি ডিপার্টমেন্টের সবগুলো মেয়ের নাম বলা শুরু করলো ।
-মেয়েটা কি মাইশা ?
-না ।
-তাহলে সেতু ?
-না ।
এইভাবে বলতে বলতে তুলি সবার নাম বলল , কিন্তু নিজের নাম বলল না ।
-সবার নামই তো বললাম । কেউই তো বাকি নেই । তাহলে ?
-গাধা , নিজের নাম বলছিস ?
কথাটা শোনার পর তুলি হতভম্বের মতো দাড়িয়ে গেলো । আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না ।
-এইবার বুঝতে পেরেছিস ?
-হুম । রিকশা ডাক দে ।
আমি রিকশা ডাক দিলাম । সারা রাস্তায় ও আর কোন কথা বলেনি । শুধু জিজ্ঞেস করেছিলো , আমি ওকে কতদিন ধরে পছন্দ করি ......
গতকাল তুলির মতামত জানতে পারলাম ।

আসলে ও আমাকে কখনোই ওইভাবে দেখেনি । সব সময় একটা ভালো বন্ধু হিসেবেই আমাকে ভেবে এসেছে । আর এই বন্ধুত্তের মাঝে অন্য কিছু চিন্তা করা ওর পক্ষে কখনোই সম্ভব না ।
কথাটা শোনার পর চোখ দিয়ে পানি এসে গিয়েছিলো । অনেক কষ্টে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেছি । ও আমাকে ভালবাসুক আর নাই বাসুক আমিতো ওকে ভালবাসি । সেটাই আমার জন্য অনেক । আর আমি যাতে আমার এই প্রিয় টিউব–লাইটটাকে আজীবন ভালবেসে যেতে পারি সেই চেষ্টাই করবো ।
I love you Tube-Light …….. আমি তোকে সত্যিই অনেক , অনেক , অনেক ভালবাসি

শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১২

ভালবাসা চোখের পাপড়ির মত...


ভালবাসা চোখের পাপড়ির মত...

চোখের পাপড়ি যখন তার স্থানে থাকে খুব সুন্দর লাগে...
ভালবাসাতেও তেমনি, দুজন মানুষ, এক জন আরেক জনের কাছাকাছি থাকে তখন তাদের সময় স্বপ্নের থেকেও সুন্দর কাটে...


চোখের পাপড়ি যখন ঝরে গিয়ে চোখে পড়ে তা শুধু কষ্টই দেয়...
তেমনি ভালবাসাও ভেঙ্গে গেলে তা শুধু কষ্টই দেয়, অনেক কাঁদায়...

বুধবার, ২৮ মার্চ, ২০১২

Happy Birthday Surovi.......




Happy Birthday to u..
Happy Birthday to u...
Happy Birthday Dear SUROVI....

Happy Birthday to u.........
          
               From The Heart of TEAM BICL

শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১২

“মা”


“মা”

‎** অসাধারণ একটি পোস্ট**

গল্পটা প্রথম যখন পড়ি নিজের অজান্তে চোখে পানি এসে গিয়েছিল,আমি কেঁদেছিলাম, আপনিও না কেঁদে পারবেন না বলেই আমার বিশ্বাস :'(

'আমি কি আমার ছেলেকে কোলে নিতে পারি?'
সদ্য মা হওয়া সুখী এক মহিলা ডাক্তারের কাছে জানতে চাইলেন।কিন্তু যখন তিনি তার সন্তানকে কোলে পেলেন তার চোখ ফেটে এল জল।তার শিশুটি যে আর সবার মত স্বাভাবিক না।শিশুটি জন্ম নিয়েছে দুটি কান ...ছাড়াই।
বছর গেল।দেখা গেল যে কান না থাকলেও ছেলেটি সবার মতই স্বাভাবিকভাবে শুনতে পায়। শুধু কান দুটির শারীরিক উপস্থিতি ছিল না।একদিন স্কুল থেকে বাসায় এসে মায়ের কোলে পড়ে কাঁদতে থাকল ছেলেটি।'স্কুলে ছেলেরা আমাকে কানহীন দানব বলে ক্ষেপিয়েছে',ছেলের কষ্টের কথা শুনে মাও কাঁদতে লাগলো।
হাতে গোনা কয়েকজন ভালো বন্ধু পেয়ে গেল সে,তাদের সাথেই থাকতো স্কুলের সময়টা।সাহিত্য আর মিউজিকে ক্লাসে আর সবার চেয়ে ভালোও করলো।
ফ্যামিলি ডাক্তার একবার একটি সুখবর নিয়ে আসলেন।তিনি বললেন যে ছেলের কান তিনি প্রতিস্থাপন করতে পারবেন,যদি কোনো সুস্থ মানুষের দুটি কান তাকে যোগার করে দেয়া হয়।অনেক খোঁজাখুজি করেও কাউকে পাওয়া গেল না কান দান করার জন্য।পুরো পরিবারের মন খারাপ।ছেলের মুখের দিকে তাকাতে পারছিল না বাবা-মা।
অবশেষে একদিন বাবা ছেলেকে সুখবরটি দিলেন।একজনকে পাওয়া গেছে যে তার কানদুটি দান করতে রাজি হয়েছে,কিন্তু শর্ত একটাই তার পরিচয় গোপন রাখতে হবে।
নির্দিষ্ট দিনে অপারেশন হলো।ছেলে কান ফিরে পেল,দুনিয়াতে এত সুখী সে নিজেকে কোনোদিনই ভাবেনি।
কিন্তু কার অবদানে সে আজ সুখী?এটা যে তাকে জানতেই হবে।তাকে একটা ধন্যবাদও যদি না দিতে পারে তাহলে যে তার জীবনই ব্যর্থ।কিন্তু বাবা জানাতে রাজী নয়।ছেলেটি খাওয়াদাওয়া বন্ধ দিল,শর্ত দিল,তাকে সেই মহানুভব ব্যাক্তির সাথে দেখা না করালে সে খাবে না।বাধ্য হয়ে তার বাবা তাকে জানাতে রাজী হলো।

সেই দিনটি ছিল ছেলের জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।বাবা তাকে তাদের বেডরুমে নিয়ে গেল এবং তার মায়ের ঘন কালো চুলগুলো দুহাত দিয়ে সরিয়ে দিল।ছেলেটি দেখলো যে তার মায়ের কানদুটি নেই।
ছেলেটি অঝরে কাঁদতে লাগলো,'কিন্তু মা,কোনোদিন নিজের এক টুকরো চুলও কাটতে দাওনি তুমি।'
আসলে প্রকৃত সৌন্দর্য বাহ্যিক নয়,প্রকৃ্ত সৌন্দর্য থাকে হৃদয়ে।প্রকৃত সম্পদ সেটা নয় যা দেখা যায়,প্রকৃ্ত সম্পদ সেটাই যা দেখা যায় না।

ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো, তার আকাশ কি আমার চেয়ে বড় ?



ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো, তার আকাশ কি আমার চেয়ে বড় ?

হে আকাশ
তোমার দিকে তাকিয়ে থাকা প্রতিটি নিঃশ্বাস
পাবে কিনা জীবনে তার কাছ থেকে কোন আশ্বাস
ভালবাসতে হলে প্রয়োজন কতটুকু বিশ্বাস!

তোমাকে পাওয়াই ছিল যার ব্রত
তার মনে আজ তোমার তরে কত ক্ষত
আকাশ দেখে
বাতাস দেখে
শুধু তুমি দেখ না!
তাই বলে কি সে কষ্ট পাবে না?

চোখে কি কোন অশ্রু আসবে না, তার
ভালবাসি বলেছে তোমায় কত বার
ঠিক করে কি বলতে পারবে একবার?

জানি তা তোমার সাধ্য নয়
তবে একটা কথা জেনে রেখো
তার ক্রন্দন দেখে
বাতাস হু হু করে কেঁদে উঠে
আকাশ কেমন জানি অন্ধকার হয়ে যায়
রাত্রির শেষ লগ্নে
ফজরের আযান পড়বে যখন
পাখিগুলো ক্রন্দনের ফলে নীড়ে থাকে না তখন,
বেরিয়ে আসে যখন
নতুন দিনের শুরু হয়ে যায় তখন
ভাবনা শেষ হয় না তার অনুরণন!

তোমার শুরু হয় যখন শুভ কোন সকাল
সারা রাত ভাবতে ভাবতে ঘুমাতে যাবে এটাই তার কপাল!!

শুক্রবার, ২৩ মার্চ, ২০১২

এই ছেলেগুলি কাঁদছে কেন জানেন?

"এই ছেলেগুলি কাঁদছে কেন জানেন?
-যা ভাবছেন তা না। ওরা হারতে অভ্যস্ত। এরচেয়ে ভালো খেলেও হেরেছে তারা।
-না। দশ-বিশ হাজার টাকা বোনাস হাতছাড়া হবার জন্যও কাঁদেনি ওরা।
-টুর্নামেন্টের ট্রফিটা না ধরতে পারার জন্যও না। ওরা জানে সামনে আরো অনেক ট্রফি ওদের পায়ে গড়াবে।
ওরা কাঁদছে আমার-আপনার জন্য। একটুর জন্য আমাদের স্বপ্নটার বাস্তবরূপ দিতে পারল না বলে।
ওরা কাঁদছে- যে ছোট শিশুটা খেলা না বুঝেই 'বাংলাদেশ' বলে চিৎকার করছিল তাকে আরেকটু চিৎকার করার উপলক্ষ এনে দিতে না পারার জন্য। আপনি কাঁদছেন পাকিস্তানের কাছে হারার জন্য। আর ওরা কাঁদছে আপনি কাঁদছেন বলে।"
 সালাম তোমাদের

সেই তুমি

সেই তুমি
হাতে হাত রেখে
পড়ন্ত বিকেলে
বৃষ্টি ঝরালে
শুকনো মরুভূমির মাঝে।

এই আমি সেই আমি
কত দুঃখ কত স্মৃতি
মনে পড়ে আজ,
অগোছালো জীবন
অন্ধ পথিকের মতন
চলছিল হৃদয় পুঁড়ে।

অনেকের অনেক কথা
হৃদয় ডোবে অশ্রুজলে
মনে পড়ে আজ
জীবনের শত ক্ষত চিহ্ন গুলো।

সেই তুমি
খেয়ালী আকাশের বুকে
ঝড়ে যাওয়া জীবনটাকে
সাজালে নতুনরূপে
পাল তোলা আবেগে।

কতদিন স্বাদ নেইনি তার
বসেছি শতবার
সন্ধ্যা তাঁরার মতন
ভেসে ওঠে সরল সেই মুখ
এই আমি আজ তোমারি কারণে।

ফুলের মতন গড়েছি জীবন
জমিয়ে শত ব্যাকুলতা
অবুঝ এমন মানে না বারণ
আনমনে জেগে ওঠা সেই ভুল।

হারাতে চাই না আর
যা চাইলেই আসবে না
চিরসুখ ক’জনার কপালে রয়,
শত কষ্টের অল্প সুখ
বাঁচাতে শেখায়।

সেই তুমি
খেয়ালী নয় আপন মনে
বাঁধবে ঘর আমার বুকে
দুঃখ কষ্ট জয় করে
থাকব আমরা মহাসুখে।

হতাশ নই

হতাশ নই কিন্তু খেলোয়াড়দের কান্না দেখে অনেক কষ্ট লাগল। তোমরা অনেক অনেক ভালো খেলেছ ফাইনালে গেছ শেষ মূহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছ অনেক প্রাপ্তি আমাদের, আগামীতে জিতব ইনশাআল্লাহ। অভিনন্দন তোমাদের। আসুন দয়া করে ইন্ডিয়া পাকিস্থান সাপোর্ট বাদ দিয়ে মনে প্রানে শুধু বাংলাদেশ সাপোর্ট করি আজ থেকে।

বি দ্রঃ কেউ কোন বাংলাদেশী প্লেয়ারকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করবেননা ইচ্ছা করে কেউ বাজে খেলেনা।

বুধবার, ১৪ মার্চ, ২০১২

তখন একাত্তর
জুলফিকার শাহাদাৎ


তখন একাত্তর,
আমার ঘরে নামলো যখন ঝড়;
তখন একাত্তর।

একাত্তরের ছাব্বিশে মার্চ রাতে,
হিংস্র ক’জন দানো এল অস্ত্র নিয়ে হাতে-
সবাই তখন ঘুমিয়েছিলাম, এই সুযোগে তারা,
জ্বালিয়ে দিল পাড়া।

দাউ দাউ দাউ আগুন শিখায় জ্বললো বাড়িঘর,
তখন একাত্তর।
তখন একাত্তর।

সবাই সেদিন দেশ বাঁচাতে মিলিয়েছিলাম হাত
সামনে ছিল বজ্রতুফান, মৃত্যু অকস্মাৎ-
হার মানিনি। হারবো কেন? ছাড়বো নিজের ঘর?
তখন একাত্তর।
তখন একাত্তর।

সেদিন সকল দামাল কিশোর সাহস নিয়ে বুকে-
দাঁড়িয়েছিলাম অন্ধকারের দৈত্য-দানোর মুখে
চোখে ছিল জয়ের নেশা,তুচ্ছ মৃত্যুভয়-
আমরা সেদিন দেশ করেছি জয়।

এদেশ আমার এদেশ তোমার এদেশ সবার মা
আমার মায়ের সঙ্গে কারো তুলনা হয় না
এই মা আছে বুকের ভেতর,থাকবে জীবনভর,
তখন একাত্তর।
তখন একাত্তর।
 

Nissongo Gangchil


বাবার কাছে
হাসনাত আমজাদ

(উৎসর্গ; ছড়াকার বন্ধু প্রবীর বিকাশ সরকার-কে)
বিদেশ থেকে আসছে টিনা 
আসছে বাবার কাছে
বাবাটি তার কত আপন
জানা কি তা আছে ?

জানে বোধ হয় , নইলে কি আর
এইভাবে কেউ আসে ?
দূরে থেকেও হয়তো বা সে
স্বপ্ন সুখে ভাসে ।

স্বপ্ন আছে দেশ নিয়ে তার
স্বপ্নমধুর স্মৃতি
গ্রামের ছবি ,বাবার স্নেহ
ভালবাসা, প্রীতি।

মা থাকে তার কাছেই, বাবা
দেশে, অনেক দূরে
ঘুম পাড়াত ছেলেবেলায়
বাবা গানের সুরে।

ছুটতো মাঠে, কাঁধে টিনা
ছুটতো নদীর ধারে
বাবার মত বাসতে ভালো
আর তাকে কেউ পারে ?

মন ছুটে তাই বাবার কাছে
মন কত কি বলে
তাকিয়ে আছে বাবা,দুচোখ
ভাসছে চোখের জলে।
 

শনিবার, ১০ মার্চ, ২০১২

একটা গাধার উদ্দেশ্যেঃ


শোন গাধা,

এই মুহূর্তে আমি অনেক রেগে আছি
রাগের অনেকগুলো কারন,
১. তুমি কখনও আমাকে "ভালবাসি" টাইপ কিছু বলনিকারন, তুমি মনে কর এটা essential কিছুনাতোমার মাথায় যদি একটুও ঘিলু থাকত তাহলে তুমি বুঝতে কারো ভালবাসা মনে মনে বুঝতে পারা আর তার মুখ থেকে সেটা সরাসরি শোনার মধ্যে কত পার্থক্য! বারবার না হোক, অন্ত্যত একবার তো বলতে পার! 

২. তুমি একটা পাগলকেন পাগল...কিভাবে... এসব ব্যাখ্যা করতে পারব না আমি এখন 

৩. তুমি অনেক জটিল একটা মানুষঅসাধারণঅর্থে জটিল বলিনিজটিল মানে complicated. আমি এতদিন মনে করতাম মেয়েদের বোঝা অনেক কঠিনএখন দেখতে পাচ্ছি তুমি মেয়েদের চেয়েও বেশি জটিল! 

৪. আমার রেগে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে, তুমি আমার সামনে অন্য মেয়েদের সুন্দর বল!! গতকালও বলেছ!! তুমি জাননা অন্য মেয়েদের সুন্দর বললে আমি বিরক্ত হই? 
থাক, তোমার কিচ্ছু বোঝা লাগবেনা 

কি? আমি হিংসুটে? হ্যাঁ, আমি তো হিংসুটেইআর তুমি হচ্ছ একটা... থাক আর বললাম না! 
তুমি তো এখন আবার মনে করবে আমার মন খারাপ! নাহ, আমার মন একটুও খারাপ না
আমি একদম বিরক্ত না
আর তোমাকে ভালোও বাসি নাএক ফোঁটাও না 

ইতি,

কেউ না

Note


ভালোবাসার মানুষটিকে ভালবাসতে না পাড়ুন কিন্তু তাকে কষ্ট দিবেন না, কারন আপনি হয়ত পৃথিবীর কাছে কিছুই না কিন্তু আপনার প্রিয় মানুষটির কাছে আপনিই তার পৃথিবী । 
-হেনরি ফ্রেডারিক আমিয়েল

Note


একটা ছেলে একটি মেয়েকে ভালবাসতো... মেয়েটি অন্ধ ছিল... সে তার বয়ফ্রেন্ড ছাড়া বাকি সবাইকে অপছন্দ করত...  সে সবসময়ই বলতো আমি যদি দেখতে পেতাম তাহলে আমি তোমাকে বিয়ে করতাম... একদিন কেউ একজন মেয়েটিকে চোখ দান করে... মেয়েটির অপারেশন সফল হয়... মেয়েটি যখন তার বয় ফ্রেন্ড কে দেখল সে ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিলো... সে অবাক হল সে কে ভালবেসেছিল সেই ছেলেটিও অন্ধ... সে ছেলেটিকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়...  ছেলেটি কিছু না বলে মেয়েটির জন্য একটি চিঠি রেখে গেল... চিঠিতে লেখা ছিল...

"
তুমি ভালো থেকো আর আমার চোখের যত্ন নিয়ো "

Note


একটা ১২ বছরের ছেলে একদিন রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল হঠাৎ সে দেখল মাটিতে একটা ছবি পড়ে আছে ছবিটি মাটি থেকে তুলে দেখল একটি ছোট্ট মেয়ের ছবি ছবিটি প্রথম দেখেই ছেলেটি ছবির ওই মেয়েটিকে ভালোবেসে ফেলে আসে পাশে অনেক খোঁজার চেষ্টা করে কিন্তু পায় না ছেলেটি ধীরে ধীরে বড় হয় এবং মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলে কিন্তু সে তার সেই প্রথম ভালোবাসার মেয়েটির ছবিটি খুব যত্ন করে রেখে দেয় একদিন তার বিয়ের হয়,  তার আলমারি গোছাতে গোছাতে তার স্ত্রী সেই ছবিটি দেখে, অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে "ছবিটি কার?" ছেলেটি বলে, "ছবিটি আমি ছোটবেলায় রাস্তায় কুঁড়িয়ে পেয়েছিলাম তখন থেকে ছবিটি আমার কাছেকিন্তু তুমি এত অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে কেন?"
স্ত্রীটি বলল - "আমি যখন ৯ বছরের ছিলাম তখন এই ছবিটি হারিয়ে ফেলেছিলাম :)"
সত্যি বলে লোকে মন থেকে ভালবাসলে ভালোবাসা একদিন না একদিন জীবনে ফিরে আসেই  

বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ, ২০১২

Post



একটা ছেলে আর একটা মেয়ে দুজন দুজন কে খুব ভালবাসত।

মেয়ে:: আচ্ছা তুমি কেনো আমাকে ভালবাস?

ছেলে ::তোমার মনের জন্য।

মেয়ে:: নাহ!মন দেখা যায় না।তুমি বল কী দেখে আমাকে ভালবাসলে??

ছেলে ::তোমার সৌন্দর্য দেখে।

এই কথা শুনে মেয়েটা খুব খুশি হল।এর কয়েকদিন পর মেয়েটা একসিডেন্ট করল।মেয়ের চেহারায় 
অনেক ক্ষতি হল।ছেলেটা মেয়েকে দেখতে হাসপাতালে আসলো।

মেয়ে:: "আমার চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে।আমি আর সুন্দর নই।এখন থেকে তুমি আমাকে আর ভালবাসবে 
না।"মেয়েটা কেদে ফেলল।

ছেলে:: "আমি তো আগেই বলেছিলাম আমি তোমার মন দেখে ভালবেসেছিলাম।রূপ হয়তো কমে গেছে 
কিন্তু তোমার মন তো আগের মতই আছে।তাই তোমাকে আগের মতই ভালবাসি।"

(অনুবাদিত)

বুধবার, ৭ মার্চ, ২০১২

শহরটাকে দিন জ্বালিয়ে

শহরটাকে দিন জ্বালিয়ে
চন্দন চৌধুরী


শহরটাকে দিন জ্বালিয়ে
আমরা শহর চাই না
বনের সবুজ বৃক্ষটা চাই
ছায়ার স্নেহ পাই না

ইটের গন্ধে প্রাণ জুড়ে না
আমরা রাখাল, তাই না!
চাই মাটি চাই গন্ধ সোঁদা,
মাটির গন্ধ পাই না

শহরটাকে দিন জ্বালিয়ে
আমরা শহর চাই না
একটা নদী পেতাম যদি
কত্তটা দিন নাই না।

" হারানো আমি "

" হারানো আমি "

by ভালবাসার ডাকপিয়ন (the cafe of love) on Wednesday, March 7, 2012 at 6:55pm ·
 
আজ অনেক দিন পর ময়মনসিংহ পার্কে হাঁটতে বের হয়েছি । হাঁটতে ভালই লাগছে। সেই সাথে এক ধরনের শূন্যতাও গ্রাস করছে। কাউকে হারানোর শূন্যতা। ময়মনসিংহ পার্কের এই পরিচিত রাস্তাগুলোতে অনেকবার টুসির হাত ধরে হেঁটেছি । আজ আর টুসি নেই । তাই একাই হাঁটতে হচ্ছে । টুসিকে আমার জীবন থেকে হারিয়ে ফেলেছি, প্রায় ছয় মাস হয়ে গেল । পার্কের রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে কালামের ছোট চায়ের দোকানটা চোখে পড়লো । অনেকদিন এই দোকানটাতে চা খাওয়া হয় না । ১২-১৩ বছরের কালাম নামের এই ছেলেটা অসাধারণ চা বানায় ।
টুসি আর আমি এই দোকানটাতে অনেকবার চা খেয়েছি । টুসি যে স্যার এর কাছে Physics প্রাইভেট পড়তো সেই স্যার এর বাসা ছিল পার্কের কাছেই । বিকালবেলা ওর প্রাইভেট শেষ হলে মাঝে মাঝেই আমাকে ফোন দিয়া পার্কে আসতে বলতো । বিকালবেলা ওর সাথে পার্কে হাঁটতে এসে প্রায়ই কালামের দোকানে চা খাওয়া হতো ।


দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কালাম ডাকল, `শাফিন ভাই,কই যান?’

এইতো, হাঁটতেছি ।‘
চা খায়া যান । অনেকদিন ধরে তো আসেন না । আফা আহে নাই ?’
কালামের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে দোকানে গিয়ে বসলাম ।

দোকানে গিয়ে বসতেই কালাম এক কাপ চা বানিয়ে হাতে দিল ।

চা খেতে গিয়ে টুসির কথা প্রবলভাবে মনে হচ্ছিলো ।
ও আমার জীবনে কেন এলো , আর কেনইবা কষ্ট দিয়ে চলে গেলো ?

মনে হচ্ছে , এইতো সেদিনের ঘটনা । পাশের বাসায় আসা নতুন ভাড়াটিয়ার সুন্দরী মেয়েটিকে হঠাৎ আমার নজরে পড়লো । সে দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার । কলেজ শেষ করে যখন বাসায় ফিরি তখন পাশের বাসার ২য় তলার বারান্দায় চোখ চলে যায় । দেখলাম , উদাস উদাস ভাব নিয়ে একটি মেয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে । প্রথম দেখাতেই মেয়েটিকে কেমন যেন ভালো লেগে গেলো । তারপর মাঝে মাঝেই মেয়েটির সাথে রাস্তায় দেখা হতো । কখনও দেখতাম বিকালে প্রাইভেটে যাচ্ছে , কখনও দেখেছি স্কুল টাইম এ রিকসার জন্য দাড়িয়ে আছে ।

একদিন হঠাৎ মাথায় ভূত চাপল টুসিকে রিকসার পেছন পেছন ফলো করে ওর স্কুল পর্যন্ত যাবো । যেই ভাবা সেই কাজ । ওর স্কুল টাইম এ বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে বের হলাম । কিছুক্ষন পরই টুসি বাসা থেকে বের হয়ে রিকসায় উঠলো । আমিও সাইকেল নিয়ে ফলো করে ওর স্কুল পর্যন্ত গেলাম । ও স্কুলে ঢুকে গেলে আমি আবার বাসায় চলে আসলাম । এভাবে মাঝে মাঝেই ফলো করতাম । একদিন ফলো করছি এমন সময় দেখলাম , টুসি বারবার রিকসার পেছন দিকে তাকিয়ে আমাকে দেখছে । বুঝতে পারলাম ফলো করার বেপারটা ও ধরে ফেলেছে । তাই , ওই দিনের পর থেকে ভয়ে আর ফলো করি নাই । কিন্তু আমি যে টুসির প্রতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পরেছি সেটা আস্তে আস্তে অনুভব করলাম । মনে মনে চিন্তা করছিলাম , কিছু একটা অবশ্যই করতে হবে । আল্লাহের রহমতে একটা রাস্তা পেয়েও গেলাম ।

আমার এক মেয়ে ফ্রেন্ড টুসিদের বাসার নিচের তলার ফ্ল্যাট এ থাকতো । সুযোগ বুঝে আমার ফ্রেন্ডকে একদিন সব খুলে বললাম । ওর সাহায্যেই আমি পরে টুসির মোবাইল নাম্বারটা পেয়ে গেলাম । শুরু হল মেসেজ পাঠানো । টুসিকে মাঝে মাঝেই মেসেজ পাঠাতাম । একদিন সাহস করে কল করে বসলাম । ও ফোন রিসিভ করার পর ভদ্র ভাষায় কিছু গালি শুনতে হল । তবুও নাছোড়বান্দার মত লেগেই রইলাম । মাঝে মাঝেই কল করতাম । কিন্তু ও রিসিভ করতো না । তারপর কলেজ এ পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় ব্যস্ততায় টুসির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম । ওকে পাবার আশাও প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলাম । পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর হঠাৎ একদিন টুসির নাম্বার থেকে আমার মোবাইল এ একটা কল আসে ।

আমিতো আকাশ থেকে পড়লাম । ভয়ে ভয়ে কলটা রিসিভ করলাম । রিসিভ করার পর টুসি যে কথাগুলো বলেছিল সে কথাগুলো হচ্ছে :
আপনি কে সে সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি । তিথি আপু (আমার সেই মেয়ে ফ্রেন্ড ,যে টুসিদের বাসার নিচের ফ্ল্যাট এ থাকে) আমাকে সব বলেছে ।
কাউকে ভালো লাগলে সেটা বলতে হয় । কাপুরুষের মত ফোন দিয়ে কাউকে বিরক্ত করে ভালবাসা আদায় করা যায় না । আর কাউকে ভালবাসতে হলে তাকে বুঝতে হয় , ভালো লাগতে হয় , যাচাই করতে হয় । তারপর তো ভালবাসা । হুট করে ভালবাসার কথা বললেই ভালবাসা যায় না । ‘
এই কথাগুলো বলে ও লাইন কেটে দেয় ।

এভাবেই আমাদের রঙিন স্বপ্ন বোনা শুরু হয়ে ছিল । ওই দিনের ফোন কলের পর থেকে আমি সব সময় টুসির পাশে থাকার চেষ্টা করেছি । মাঝে মাঝেই ওর স্কুল এ যাওয়ার সময় সাইকেল দিয়ে রিকসার সাথে সাথে ওর স্কুল পর্যন্ত গিয়েছি । বিকালেও প্রায়ই ওর প্রাইভেট এ যাওয়ার সময় সাথে সাথে গিয়েছি । ও শুধু পিছনে ফিরে মুচকি হাসত । এই মুচকি হাসিটাই আমার কাছে চাঁদের আলো মনে হতো ।
এভাবে চলার দুই মাস পর টুসিকে সরাসরি প্রপোজ করলাম । ও কিছু না বলে শুধু একটু হেসেছিল । ২ দিন পর ও যখন আমার প্রস্তাবে হ্যাঁ বলল তখন আমি যে কি খুশি হয়েছিলাম সেটা বলে বোঝানো যাবে না ।
আমাদের দিনগুলো স্বপ্নের মত এগিয়ে যেতে লাগলো । টুসির ভালবাসায় নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হতো ।
আমার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে মাঝে মাঝেই টুসি জিজ্ঞেস করতো , আমাকে ছেড়ে কখনো যাবে নাতো ?’
আমি ওর হাতটা আরও শক্ত করে ধরে বলতাম ,আমার এই লক্ষ্মী পাগলীটাকে ছেড়ে আমি কখনোই যাবোনা ।
এইভাবে স্বপ্নের ঘোরে অনেকগুলো দিন কেটে গেলো । টুসি এস .এস .সি তে জি .পি . এ - ৫ পেয়ে ভিকারুন্নিসা কলেজ এ ভর্তি হল । ও ঢাকা চলে যাওয়ার আগের দিন আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কেঁদেছিল । ও ঢাকায় ওর খালার বাসায় থাকতো । কলেজ বন্ধ হলে ও যখন ময়মনসিংহ আসতো তখনি শুধু আমাদের দেখা হতো । আর ফোন এবং ফেসবুক এ তো সব সময় যোগাযোগ থাকতোই ।


আমিও ব্যস্ত হয়ে পড়লাম এইচ .এস . সি পরীক্ষা নিয়ে । কেটে যেতে লাগলো দিনগুলো ..........


এইচ.এস.সি পরীক্ষা হয়ে গেল । জি .পি . এ – ৫ পেয়ে ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হলাম । তারপর শুরু হয়ে গেল ভর্তি যুদ্ধ । চান্স পেলাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে । নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালি দিন আর টুসির ভালবাসা নিয়ে মুহূর্তগুলো ভালই কাটছিল । কিন্তু আমাদের সুখটা আর বেশি দিন স্থায়ী হল না । আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে টুসির ফ্যামিলিতে জানাজানি হয়ে গেল । ফ্যামিলির চাপে এক সময় টুসি আমার সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিল । ভেবেছিলাম সব ঠিক হয়ে যাবে । কিন্তু , কিছুই ঠিক হল না । জীবনটা কালো অন্ধকারে ঢেকে গেলো হঠাৎ করেই । দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছিলো । মোবাইলে কল আসলে মনে হতো এই বুঝি টুসি ফোন করলো । কিন্তু , সেই আশা আশাতেই থেকে যেতো । শুধু ভাবতাম , ফ্যামিলির চাপে ও আমাকে এত সহজেই ভুলে গেলো ।


প্রায় দেড় মাস পর যখন সত্যি ঘটনাটা জানতে পারলাম তখন আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো ।
আসলে , টুসি আরেকটি ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল । তাই , ফ্যামিলির চাপের অজুহাত দেখিয়ে ও আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলো । হিমি নামে টুসির এক বান্ধবীর কাছ থেকে যেদিন কথা গুলো শুনেছিলাম সেদিন কিছুতেই নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না । মনে হচ্ছিলো এটা একটা স্বপ্ন , আর স্বপ্নটা বুঝি এখনি ভেঙে যাবে । যেই মানুষটাকে এত বেশি বিশ্বাস করতাম , এত বেশি ভালবাসতাম সেই মানুষটা আমাকে আজ এভাবে কষ্ট দিলো ।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সেদিনই টুসিকে ফোন দিয়েছিলাম । ভেবেছিলাম সবই মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে । কিন্তু , সব কিছু ভুল প্রমাণিত করে টুসি যখন সত্যি ঘটনাটি স্বীকার করলো তখন আমি কিছুক্ষনের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম । ইচ্ছা হচ্ছিলো দৌড়ে দূরে কোথাও পালিয়ে যাই ।
‘ কি দোষ ছিল আমার ? কি ভুল করেছিলাম আমি ? আমিতো শুধু ভালবেসেছিলাম । ‘
‘ হে আল্লাহ , আমার ভালোবাসাটাই কি দোষ ছিল । এটাই কি আমার ভুল ছিল । ‘
আসলে , এরকম দুঃখ পাওয়াটাই মনে হয় ভালোবাসা ।
কথাগুলো চিন্তা করতে করতে কখন যে অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে বুঝতেই পারলাম না । ঘর ভাঙল কালামের ডাকে ।
-শাফিন ভাই , আপনের চা তো অনেক আগেই ঠাণ্ডা হইয়া গেছে । আরেক কাপ চা বানায়া দেই ?
-না থাক । আজকে আর লাগবে না । আরেকদিন এসে খাবো ।
চায়ের কাপটা রেখে টাকা দিয়ে যখন চলে আসছিলাম , তখন আবার পিছন থেকে কালাম ডাক দিলো ।
-শাফিন ভাই , একটু শুইনা যান ।
যাওয়ার পর কালাম আমাকে ওর দোকানের পিছনে একটা গোলাপ গাছ দেখাল । গাছটাতে একটা গোলাপ ফুটে আছে । তখনি আমার গাছটার কথা মনে পড়লো । আমিতো একবারে ভুলেই গিয়েছিলাম । গত বছর , বৃক্ষ মেলা থেকে এই গোলাপ গাছটা কিনে টুসি এখানে এনে রোপণ করেছিলো । বলেছিল , আমাদের ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ গাছটা এখানে থাকবে । গাছটা ঠিকই রয়ে গেছে , কিন্তু আমাদের ভালোবাসাটা হারিয়ে গেছে ।
-শাফিন ভাই , আরেকদিন আসার সময় আফারে সাথে কইরা নিয়া আইসেন । আফা গাছে ফুল দেখলে অনেক খুশি হইব ।


সে কি আর কখনো আসবে এই দোকানে চা খেতে ? হয়তো আসবে অন্য কারো হাত ধরে ......... কথাগুলো চিন্তা করতে করতে হেঁটে যাচ্ছি পার্কের সেই চিরচেনা পথটি ধরে...............


লেখক-(এন. এস . শাফিন)